
|
সুপ্রিয় পাঠক!
১৯৭৯ সালের ১লা ফেব্রুয়ারী ৷ দীর্ঘ ১৫ বছর পর স্বদেশের মাটিতে পা
রাখলেন ইমাম খোমেনী (রহ:) ৷ নির্বাসিত জীবনে থেকে দূরদর্শী
নেতৃত্ব দিয়ে বিপ্লবের যে ক্ষেত্র
তিনি
তৈরী করেছিলেন, তার চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার জন্যে ফিরে এলেন প্রিয়
স্বদেশভূমে ৷ অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে যথার্থ নেতৃত্ব দিয়ে মাত্র দশ
দিন পরেই বিজয় অর্জন করলেন ৷ তাঁর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন থেকে ১১ই
ফেব্রুয়ারি বিপ্লব বিজয় পর্যন্ত ঐতিহাসিক ঐ দশদিন ইরানে শুভ্র দশ
প্রভাত বা ফার্সিতে দাহে ফাজর নামে পালন করা হয় ৷ মূলত ঐক্যের
আহ্বানই এই দিবসগুলো পালনের মূল লক্ষ্য ৷ আমরা প্রতি বছরই এ
উপলক্ষ্যে বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করি ৷ আপনাদের পড়ার
সুবিধার্থে এবারের অনুষ্ঠানগুলো ওয়েব সাইটে দেওয়া হলো
। (আপডেট: ৭ ফেব্রুয়ারি-২০০৭)
|
ইরানের প্রতিরক্ষা শক্তিঃ জাতীয়
ক্ষমতার
রক্ষাকবচ
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান স্বাধীনতা, প্রজ্ঞা, ঈমান ও ন্যায়বিচারের
আলোকঔজ্জ্বল্যে ভাস্বর এক অনন্য রাষ্ট্র ৷ এ ছাড়াও সাম্রাজ্যবাদের
আপোষহীন শত্রু হওয়ায় ইরান গত তিন দশক ধরে বিশ্বে সবচেয়ে বেশী
আলোচিত ৷ ইরানের স্বাধীনচেতা নীতি ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধীতার মূলে
রয়েছে দেশটির প্রতিষ্ঠাতা মরহুম ইমাম খোমেনী (রঃ)'র আদর্শ এবং তাঁর
অনুসারী ইরানী জনগণের দৃঢ়তা ৷ এ কারণেই ইরানে ইসলামী বিপ্লব বিজয়ী
হবার পর বিশ্বে দুটি রাজনৈতিক ধারা গড়ে ওঠে ৷ প্রথম ধারাটি হলো
ইসলামী বিপ্লবের প্রতি নিপীড়িত ও বঞ্চিত জাতিগুলোর সমর্থন এবং এ
বিপ্লব ও তার অভিজ্ঞতাকে মুক্তির আশার আলো বা আদর্শ হিসেবে গ্রহণ ৷
বিশ্ব অঙ্গনে ইরানের ইসলামী বিপ্লবের এই ইতিবাচক প্রভাবের ধারা
লক্ষ্য করেই বাংলাদেশের একজন কবি লিখেছেন,
এ বিপ্লব অনাগত বহু বিপ্লবের
কেন্দ্রীয় সূতিকাগার
আগামীতে এই ইশতিহার
শৃঙ্খলিত পৃথিবীর বিধ্বস্ত বহু জনপদে
মজলুম মানুষের রক্তস্নাত আত্মার পরতে পরতে
দেশে দেশে চালিয়ে দেয়া রাষ্ট্র-যন্ত্রণায়
ছড়াবেই বিপ্লবের গান
এ বিপ্লব অগণিত নৈশ তাঁবুর
দুঃসহ রাত্রি শেষঃ ঘুমভাঙ্গা ভোরের আযান ৷
অন্যদিকে ইরানের ইসলামী বিপ্লবের প্রভাবে সৃষ্ট দ্বিতীয় ধারাটি হলো
বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদ ও আন্তর্জাতিক ইহুদিবাদের সমন্বয়ে আধিপত্যকামী
ধারা ৷ দ্বিতীয় ধারাটি নিজের অবৈধ আধিপত্যকে বিপদাপন্ন দেখতে পেয়ে
ইরানের ইসলামী বিপ্লবকে দমন ও তা নির্মূলের জন্যে বিভিন্ন
ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে ৷
ইরানের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে
ক্রমবর্ধমান বিভিন্ন হুমকীর কারণে দেশটির প্রতিরক্ষা শক্তি জোরদারের
প্রচেষ্টা অপরিহার্য ৷ তাই ইরানের নেতৃবৃন্দ সামরিক ক্ষেত্রে
স্বনির্ভর হওয়াকে সব সময়ই গুরুত্ব দিয়ে এসেছেন এবং এ কারণে ইরান
প্রতিরক্ষা সামগ্রীর ক্ষেত্রে প্রায় পুরোপুরি স্বনির্ভরতা অর্জন করেছে
৷ অন্য কথায় ইরানের অধিকাংশ
প্রতিরক্ষা সামগ্রীই ইরানী বিশেষজ্ঞদের
নিজস্ব সৃষ্টি ৷ ইরানের অস্ত্রশিল্পের ওপর মার্কিন ও ইউরোপীয়
নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তেহরান নিজস্ব বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে নতুন
প্রযুক্তি ও মডেল নির্মাণসহ উন্নতমানের অস্ত্রশস্ত্র উত্পাদন করছে
৷
মার্কিন সরকার ও ইহুদিবাদী ইসরাইলের আগ্রাসী এবং আধিপত্যকামী নীতির
কারণে মধ্যপ্রাচ্য ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে গত ৫০ বছর ধরে অনেক
সংকট সৃষ্টি হয়েছে ৷ সাদ্দামের বাহিনীর হাত থেকে কুয়েতকে মুক্ত
করার নামে মার্কিন সরকার এ অঞ্চলে সেনা মোতায়েন জোরদারের প্রক্রিয়া
শুরু করে এবং অবশেষে ইরাকে ইঙ্গ-মার্কিন দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠার
মাধ্যমে এ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে উপনীত হয় ৷ তাই বর্তমানে
মধ্যপ্রাচ্য ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিটি দেশ, বিশেষ করে
ইরাকের প্রতিবেশী দেশগুলো মার্কিন সামরিক হুমকীর সম্মুখীন ৷ ইরানও এ
অঞ্চলে অবস্থিত ৷ ইরানের দুই প্রতিবেশী ইরাক ও আফগানিস্তানে
মার্কিনসেনাসহ বহুজাতিক দখলদার বাহিনী মোতায়েন রয়েছে ৷ পারস্য
উপসাগর অভিমুখে মার্কিন রণতরী ও বিমানবাহী রণতরী এগিয়ে আসছে ৷ এ
ছাড়াও মার্কিন সরকার ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু তত্পরতার অজুহাতে
ইরানকে অত্যন্ত কঠোর ও নজিরবিহীন ভাষায় হুমকী দিচ্ছে ৷
মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানের ওপর সামরিক হামলার সম্ভাবনার কথা,
বিশেষ করে ইরানের পরমাণু প্রসঙ্গটিকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে
পাঠানোর পর এ ধরনের হামলার সম্ভাবনার কথা বার বার উচ্চারণ করেছে ৷
এ অবস্থায় বাইরের আগ্রাসন মোকাবেলার জন্যে
প্রতিরক্ষা শক্তি জোরদার
করা ছাড়া ইরানের জন্যে অন্য কোনো পথ খোলা নেই ৷
প্রতিরক্ষায় ইরানের
অগ্রগতির কথা পাশ্চাত্যের নেতৃবৃন্দও স্বীকার করেছেন ৷ মার্কিন
কর্মকর্তারাও জানেন, ইরানের ওপর মার্কিন সরকারের বিরামহীন চাপ এবং
ইরানের ওপর চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধের সময় সাদ্দাম সরকারের প্রতি হোয়াইট
হাউজ ও তার মিত্রদের সহায়তার কারণেই ইরান তার সামরিক শিল্প জোরদার
ও এ ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা অর্জন করতে বাধ্য হয়েছে ৷
ক্ষেপনাস্ত্র ও বিমান
প্রতিরক্ষাসহ অন্যান্য সামরিক সাজ সরঞ্জাম ইরানের
ভেতরেই এমনভাবে তৈরির ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে যে এইসব অস্ত্র বা
সাজ-সরঞ্জামের চাহিদা যতই বৃদ্ধি পাক না কেন তা অফুরন্ত উত্সের
মতো চাহিদা মেটাতে সম থাকবে ৷ বহির্বিশ্বের কোনো নিষেধাজ্ঞাই এ
ক্ষেত্রে ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে সক্ষম নয় ৷ ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এখন
যে কোনো সুসজ্জিত এবং পেশাদার বা অপেশাদার সেনা বাহিনীর হামলা
মোকাবেলা ও এমনকি পরাশক্তির হামলাও মোকবেলা করতে সক্ষম ৷ গত আগষ্ট
ও নভেম্বর মাসে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বিশ্বনবী হযরত
মোহাম্মাদ (সাঃ) শীর্ষক বৃহত্ সামরিক মহড়ায় ইরানের অত্যাধুনিক
কিছু অস্ত্র প্রদর্শন করেছে ৷ এসব অস্ত্রের মধ্যে ছিল পানির নীচের
লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির ক্ষেপনাস্ত্র
এবং ক্রুজ ক্ষেপনাস্ত্রসহ কাস্টার ক্ষেপনাস্ত্র ৷
এ ছাড়াও ইরানের অস্ত্র ভান্ডারে থাকা অধিকাংশ দূরপাল্লার
ক্ষেপনাস্ত্র
শত্রুর রাডারকে ফাঁকি দিতে সক্ষম ৷ ইরানের দূরপাল্লার
ক্ষেপনাস্ত্রের সর্বোচ্চ পাল্লা অন্ততঃ আড়াই হাজার কিলোমিটার ৷ তেল
আবিবসহ পূর্ব ইউরোপের অনেক মার্কিন সামরিক ঘাঁটিও এখন ইরানের
ক্ষেপনাস্ত্রের পাল্লার মধ্যে রয়েছে ৷ এছাড়াও ইরান জুলফিকারের আঘাত
শীর্ষক সামরিক মহড়ায় ভূমি, আকাশ ও নৌপথে তার সশস্ত্র বাহিনীগুলোর
সমতা প্রদর্শন করেছে ৷
এই সামরিক মহড়ার সময় ইরানের প্রেসিডেন্ট ডক্টর মাহমুদ আহমাদিনেজাদ
বলেছেন, ইরানের সেনাশক্তি কোনো দেশের জন্যেই হুমকী নয়, বরং তা
ইরানের নিরাপত্তার রক্ষাকবচ মাত্র ৷ বিশ্বনবী (সাঃ) শীর্ষক সামরিক
মহড়া অনুষ্ঠানের সময়ও পাশ্চাত্যের অনেক কর্মকর্তা ও গণমাধ্যম এই
মহড়াকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর জন্যে হুমকী বলে দেখানোর চেষ্টা
করেছেন ৷ কিন্তু বাস্তবে ইরানের সামরিক
ক্ষমতা কারো জন্যেই হুমকী তো
নয়ই বরং এই
ক্ষমতা পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর
মধ্যে সামরিক সহযোগীতার গুরুত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে ৷ ইরানের
প্রতিরক্ষামন্ত্রীও এই সামরিক মহড়ার পর বলেছিলেন, ইরানের এই মহড়ার
বাণী হলো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে শান্তি ও বন্ধুত্ব
প্রতিষ্ঠা ৷ ইরান সব সময়ই এটা বলে এসেছে যে, তেহরান এ অঞ্চলের
দেশগুলোর নিরাপত্তাকে নিজের নিরাপত্তা বলেই মনে করে ৷
আসলে বিদেশী সেনাদের বিপুল উপস্থিতি ও তাদের সাথে আনা বিপুল
সমরাস্ত্র মধ্যপ্রাচ্য ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর
নিরাপত্তাকে হুমকীর সম্মুখীন করেছে ৷ তাই ইরানসহ এ অঞ্চলের
অন্যান্য দেশের উচিত নিজ নিজ প্রতিরক্ষা শক্তি জোরদার করা ৷
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে পারস্য উপসাগরে ছোট-বড় ১১০টিরও বেশী
রণতরী মোতায়েন করেছে ৷ মার্কিন সরকার ইরাক ও আফগানিস্তানে
দখলদারিত্ব বজায় রাখায় মধ্যপ্রাচ্য ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের
দেশগুলো তাদের নিরাপত্তার ব্যাপারে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে ৷ ইরান মনে
করে মধ্যপ্রাচ্য ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের মতো গুরুত্বপূর্ণ বা
কৌশলগত অঞ্চলের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার জন্যে এ অঞ্চলের সামরিকায়নের
দরকার নেই, বরং এ জন্যে এ অঞ্চল থেকে বিদেশী সেনা প্রত্যাহার করাই
জরুরী এবং এ অঞ্চলের দেশগুলোকেই নিজ নিরাপত্তা রক্ষার উদ্যোগ নিতে হবে
৷
এটাও স্পষ্ট যে, মধ্যপ্রাচ্য ও তত্সংলগ্ন কোনো কোনো দেশে দখলদার
সেনা মোতায়েন থাকায় মার্কিন ও ইহুদিবাদী ইসরাইলের সম্ভাব্য
যুদ্ধ-বিলাসিতা বা রোমাঞ্চপিয়াসী যুদ্ধ অভিযান মোকাবেলার জন্যে এ
অঞ্চলের দেশগুলোর সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে ৷
এমনকি পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর
সামরিক ক্ষমতা বৃদ্ধি তাদের জাতীয় নিরাপত্তার রক্ষাকবচ হয়ে থাকবে ৷
#
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে ইরানের সাফল্য
১৯৭৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইসলামী বিপ্লবের বিজয়ের মধ্য দিয়ে
ইরানের আর্থ-রাজনৈতিক,সাংস্কৃতিক ও বৈজ্ঞানিক
ক্ষেত্রে
উন্নয়নের নতুন ধারা সূচিত হয়েছে ৷ মানবীয় মূল্যবোধ ও ধর্মীয় আদর্শ
ভিত্তিক বিপ্লবী সরকার, ইসলামী শিক্ষার আলোকে ইরানের মুসলিম জাতির
উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে সর্বদা গুরুত্ব দিয়েছে ৷ অন্যদিকে, ইরানের
মুসলিম জনগণও নিজেদের সৃজনশীল প্রতিভা ও যোগ্যতাকে আরও শাণিত করে
দেশের উন্নয়নে আত্মনিয়োগ করেছে ৷ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত
ক্ষেত্রে
ইরানি তরুণদের অবদান অনস্বীকার্য ৷ সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর নানা
ষড়যন্ত্র ও চাপ সত্ত্বেও ইরানের জনগণ বিশেষকরে তরুণ প্রজন্ম গত ২৮
বছরে ' আমরাও পারি'- এ উক্তির বাস্তবতা প্রমাণ করেছে ৷ ইরান পরমাণু
ক্ষেত্রে
অকল্পনীয় সাফল্য অর্জন করেছে ৷ জ্বালানী চক্রসহ পরমাণু
ক্ষেত্রে
ইরানের সাফল্যকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির
ক্ষেত্রে
ইরানের শ্রেষ্ঠ অর্জন বলা যেতে পারে ৷ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির
ক্ষেত্রে
উন্নয়নকে যে কোন দেশ ও জাতির প্রকৃত স্বাধীনতা ও সার্বিক উন্নয়নের
পূর্ব শর্ত বলে মনে করা হয় এবং ইরানের মুসলিম জাতিও এই বাস্তবতার
আলোকে জ্ঞান-বিজ্ঞানের সর্বোচ্চ চূড়া জয়ের লক্ষ্যে সম্মুখপানে
এগিয়ে চলেছে ও লক্ষ্য অর্জনের ব্যাপারে সংকল্পবদ্ধ ৷
ইরানে দুই শতাব্দিরও বেশি সময় ধরে বিদেশীদের পদলেহী রাজতান্ত্রিক
সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে জ্ঞান-বিজ্ঞানের
ক্ষেত্রে
দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি খুব একটা হয় নি বললেই চলে কিন্তু ইসলামী
বিপ্লবের পর তাতে আমূল পরিবর্তন এনেছে ৷ ইরানের সরকার ও জনগণ
ক্ষেত্রে
অতীতের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ৷ কারণ এতে কোন
সন্দেহ নেই যে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও জাতি জ্ঞান-বিজ্ঞানে পিছিয়ে
থাকার কারণেই সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলো পুরো বিশ্বে আধিপত্য
প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখার এবং অনুন্নত দেশগুলোর
স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে উপেক্ষা করার সাহস পাচ্ছে ৷ বিশ্বের অধিকাংশ
দেশই এখন জ্ঞান-বিজ্ঞানের
ক্ষেত্রে
সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর উপর নির্ভরশীল এবং তাঁরা এখন এই দূর্বলতাকে
অপব্যবহার করছে ৷ বাস্তবতা হলো, স্বাধীন ও স্বনির্ভর দেশের অধিকারী
হতে হলে প্রথমেই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির
ক্ষেত্রে
উন্নয়ন সাধন করতে হবে ৷ কিন্তু সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলো সব সময়
নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখার
লক্ষ্যে উন্নয়নশীল দেশগুলোর উন্নয়ন ও
অগ্রগতির পথে বাঁধা সৃষ্টির চেষ্টা করছে ৷ তবে ইরানের মুসলিম জাতি
ব্যাপক ষড়যন্ত্র ও অর্থনৈতিক অবরোধের পরও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির
ক্ষেত্রে
উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে ৷ চিকিত্সা
ক্ষেত্রেও
ইরানের সাফল্য উল্লেখ করার মতো ৷
মৌলিক কোষ সংরক্ষণ, বৃদ্ধি ও ক্লোনিং এবং এইডসের মতো মারণব্যাধি
নিয়ন্ত্রণের ওষুধ উদ্ভাবন ও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ
প্রতিস্থাপনের
ক্ষেত্রে
ইরানের সাফল্য আন্তর্জাতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে ৷ ইরানের
চিকিত্সা বিজ্ঞানীরা এইডস নিয়ন্ত্রনের জন্য ‘আইমোড’ নামের যে ওষুধ
উদ্ভাবন করেছে, তা মূল্যের দিক থেকে যেমন সস্তা তেমনি অন্য ওষুধের
চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর ৷ ইরানের উদ্ভাবিত এই ওষুধ ইরানি রোগীদের
জন্য বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয় ৷ ইরান ভবিষ্যতে দরিদ্র দেশগুলোর
রোগীদের জন্যে সস্তায় ওষুধ সরবরাহ করবে ৷ এছাড়া, ইরান, স্পাইনাল
কর্ড প্রতিস্থাপনের
ক্ষেত্রে
বিশ্বের অনেক উন্নত দেশকেও হার মানিয়েছে ৷ স্পাইনাল কর্ড
প্রতিস্থাপনের
ক্ষেত্রে
ইরানের উদ্ভাবিত পদ্ধতি, বিশ্বের অন্য দেশে বিদ্যমান প্রতিস্থাপন
পদ্ধতির চেয়ে অনেক বেশি উন্নত এবং এ উন্নত ব্যবস্থা বর্তমানে
ইরানসহ বিশ্বের চারটি দেশে রয়েছে ৷ ইরান
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কৃষি
বিজ্ঞানেও ব্যাপক সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে ৷
ইরানের মুসলিম জাতি, বিপ্লবের পর গত কয়েক বছরে বিজ্ঞানের বিশেষ
কিছু শাখায় উন্নত দেশগুলোর সারিতে জায়গা করে নিতে সক্ষম হয়েছে ৷
আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডগুলোতেও ইরানি তরুণরা প্রতি বছরই তাঁদের
সৃজনশীল প্রতিভার প্রমাণ তুলে ধরছে ৷ ইরানের তরুণ বিজ্ঞানীরা
আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডগুলোতে প্রতিবারই একাধিক পদক পেয়েছে ৷ ইরান
যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির
ক্ষেত্রে
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার যোগ্যতা রাখে, আন্তর্জাতিক
অলিম্পিয়াডগুলোতে ইরানি তরুণদের সাফল্য-তারই দৃষ্টান্ত ৷ ইরানে
সফটওয়্যার মু্ভমেন্ট ও বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনের যে ধারা সূচিত হয়েছে,
তা ইরানিদের আত্মবিশ্বাস ও উজ্জল ভবিষ্যত গড়ার প্রত্যয়েরই ফসল ৷
আত্মবিশ্বাস ও উজ্জল ভবিষ্যত গড়ার প্রত্যয়ই, ইরানের উন্নয়ন ও
অগ্রগতির মূল ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং ইরানের মুসলিম জাতি
শত্রুদের শত ষড়যন্ত্রের পরও উন্নয়নের পথ পরিক্রমা অব্যাহত রাখতে
পিছপা হয় নি ৷ সামরিক শক্তি ও অস্ত্রের জোরেই যে কেবল বিশ্বে
আধিপত্য বজায় রাখা সম্ভব নয় তা উপলব্ধির পর সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলো
এখন জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক
ক্ষেত্রে
প্রভাব বৃদ্ধির মাধ্যমে
চিরস্থায়ী আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পথ বেছে
নিয়েছে ৷ সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলো এখন ন্যাটোর মতো সামরিক জোট গঠনের
পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশগুলোকে উন্নত প্রযুক্তি থেকে বঞ্চিত করার
লক্ষ্যে জোটবদ্ধ হয়েছে এবং তাদের লক্ষ্য একটাই- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে
নিজেদের করায়ত্তে রেখে বিশ্বের অন্য সকল দেশকে পরনির্ভরশীল করে
রাখতে হবে ৷ সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলো একই
লক্ষ্যে
ইরানের বেসামরিক
পরমাণু কর্মসূচির বিরোধিতা করছে ৷ এসব দেশ শুরু থেকেই বিজ্ঞান ও
প্রযুক্তিকে সামরিক কাজে ব্যবহার করলেও অন্য দেশগুলোকে
শান্তিপূর্ণ কাজেও তা ব্যবহার করতে দিচ্ছে না ৷ কিন্তু
পাশ্চাত্যের ব্যাপক ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও ইরান বেসামরিক পরমাণু
প্রযুক্তি অর্জন করেছে ৷ ইরানের পরমাণু প্রযুক্তি পরিপূর্ণভাবে
দেশীয় প্রযুক্তি এবং ইরান বিদেশীদের কোন সাহায্য ছাড়াই এখন তাঁর
পরমাণু কর্মসূচীকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম ৷ ইরান শত ষড়যন্ত্রের পরও
অতীতে যেমন তার উন্নয়ন ও অগ্রগতি অব্যাহত রেখেছিল, ভবিষ্যতেও তা
অব্যাহত রাখবে ৷
#
বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইরানী শিশু-কিশোর ও তরুণ-তরুণীদের সাফল্য
১লা ফেব্রুয়ারি হচ্ছে একটি ঐতিহাসিক দিন ৷ ১৯৭৯ সালের এই দিনে
ইরানের ইসলামী বিপ্লবের নেতা মরহুম ইমাম খোমেনী (রহঃ) দীর্ঘ ১৫
বছর নির্বাসনে থাকার পর দেশে ফিরে আসেন ৷ ইমামের আগমনকে স্মরণীয় করে
রাখতে ইরানের লক্ষ লক্ষ জনতা রেজা শাহের সেনাবাহিনীর সমস্ত ভয় ভীতি
উপেক্ষা করে নানা রকম ফুল দিয়ে ইমামকে বরণ করে নেয় ৷ ইমামের প্রতি
ইরানের শিশুকিশোর, তরুন-যুবক, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা সর্বশ্রেণীর মানুষের
ভালবাসার বাধভাঙ্গা জোয়ার দেখে শাহ সরকার ভয় পেয়ে আমেরিকায় পালিয়ে
যায় এবং ইসলামী বিপ্লব বিজয় লাভ করে ৷
ইরানের ইসলামী
বিপ্লব
বিজয়ের ক্ষেত্রে দেশের আপামর জনগণের পাশাপাশি
শিশুকিশোররাও ব্যাপক অবদান রেখেছে ৷ শুধু তাই নয়, বিপ্লবের ২৮
বছরের মধ্যে ইরানী শিশুকিশোর এবং তরুণ তরুণীরা আন্তজার্তিক
ক্ষেত্রে বিভিন্ন সাফল্য অর্জন করে বিশ্বের বুকে ইরানের মুখ উজ্জ্বল
করেছে ৷ আজ আমরা বিভিন্ন
ক্ষেত্রে
ইরানী শিশুকিশোর ও তরুণ তরুণীদের
সাফল্যের কিছু বিষ্ময়কর ঘটনা আলোচনা করবো ৷
পাঠক! আপনারা সবাই জানেন যে, ইরানের শাসনব্যবস্থা কুরআনের আইন
অনুযায়ী পরিচালিত হয় ৷ এখানকার সবধরনের পড়াশোনায় ছাত্রছাত্রীদের
কুরআনের জ্ঞান শিক্ষা দেয়া হয় ৷ ইরানের বেশ কিছু শিশু হাফেজ কুরআনের
জ্ঞানের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমধর্মী সাফল্য অর্জন করেছে ৷ তাদের মধ্যে
প্রথম যার নামটি বলা দরকার সে হচ্ছে সাইয়েদ মুহাম্মদ হোসাইন
তাবাতাবাঈ ৷ ১৯৯২ সালে ইরানের মাশহাদ শহরে সে জন্মগ্রহণ করে ৷ মাত্র
দু'বছর বয়সেই সে শুনে শুনে পবিত্র কুরআনের শেষ পারা অর্থাত্
আমপারা মুখস্থ করে ফেলে
৷ এরপর পিতার তত্ত্বাবধানে অল্পদিনের মধ্যেই সে সম্পূর্ণ কুরআন
মুখস্ত করে ৷ তাঁর মাতৃভাষা ফার্সি হলেও সে
অনর্গল আরবী ভাষায় কথা বলতে পারে ৷ ৬ বছর বয়সেই সে হাদিসগ্রন্থ
উসুলে কাফীর ৪ খন্ড এবং শেখ সাদী গুলিস্তান মুখস্থ করে ফেলে ৷
১৯৯৭ সালে হজ্বের মওসুমে সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নায়েফ বিন
আব্দুল আজিজ মুহাম্মদ হুসাইন ও তার পিতাকে দাওয়াত দিয়েছিলেন ৷
সেখানে সৌদি রাজপরিবারের সদস্যদের সাথে কুরআন মজীদের বিভিন্ন বিষয়
নিয়ে মুহাম্মদ হুসাইনের কথা হয় ৷ আলোচনা শেষে সবাই একথা বলতে বাধ্য
হন যে, তারা আজ পর্যন্ত এতো কম বয়স্ক কিন্তু গুণ বিশিষ্ট হাফেজ আর
দেখেন নি ৷
ইরানের ইসলামী বিপ্লবের ১৯তম বিজয় বার্ষিকী উপলক্ষ্যে মুহাম্মদ
হুসাইন তাবাতাবাঈ তিন সপ্তার জন্য লন্ডন সফরে যান ৷ সেখানকার হিজাজ
বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বোর্ড কয়েক ঘন্টাব্যাপী তার একটি মৌখিক
পরীক্ষা নেয় ৷ এ পরীক্ষায় সে শতকরা ৯৪ ভাগ নম্বর পেয়ে সবাইকে তাক
লাগিয়ে দেয়৷ তাঁর এ বিরল প্রতীভার স্বীকৃতিস্বরুপ বিশ্ববিদ্যালয়
কর্তৃপক্ষ তাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে ৷ এখানেই শেষ
নয় মুহাম্মদ হুসাইন ইরানের সর্বোচ্চনেতার সামনেও তার প্রতিভার
স্বাক্ষর রাখে ৷ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী
মুহাম্মদ হুসাইন সম্পর্কে তার পিতাকে বলেন, আপনার ছেলে খুব
বুদ্ধিমান এবং সে হচ্ছে ইসলামী বিপ্লবের ফল ৷' ইরানের এ বিষ্ময় বালক
বর্তমানে কৌমের দ্বীনি শিক্ষা কেন্দ্রে পড়াশুনা করছে ৷
মুহাম্মদ হুসাইন তাবাতাবাঈয়ের ডক্টরেট ডিগ্রি লাভের মাত্র এক বছর
পর অর্থাত্ ১৯৯৯ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারি ইরানের রোকাইয়া মুহাম্মদী
নামের এক ছোট্ট মেয়েও হাফেজে কুরআন এবং কুরআন সম্পর্কিত জ্ঞানের
জন্য একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করে ৷
ইরানী সংবাদ সংস্থা ইরনার খবরে বলা হয়, ১০ বছর বয়সী ৩ জন দক্ষ
হাফেজে কুরআনসহ ৭ সদস্যের পরীক্ষা কমিটির সামনে হাজির হয়ে সে ১০০
নম্বরের মধ্যে ৯১ নম্বর লাভের কৃতিত্ব অর্জন করে ৷ কুরআন মজীদ
সম্পর্কীত জ্ঞানের ৫টি শাখায় ১০০টি প্রশ্নের সাহায্যে অনুষ্ঠিত ওই
প্রতিযোগিতাটি অষ্ট্রেলিয়ার একজন অধ্যাপকের তদারকীতে অনুষ্ঠিত হয় ৷
প্রতিযোগিতা শেষে হেজাজ বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা কমিটি রোকাইয়া
মুহাম্মদীকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে ৷
এ ধরণেরই আরেক শিশু প্রতিভার নাম হচ্ছে মেহইয়ার হোসাইন ৷ ১৯৯২সালে
সে ইরানে জন্ম গ্রহন করে ৷ ইরাক, কুয়েত, লেবানন, রাশিয়া,সিরিয়া
প্রভৃতি দেশে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পুরষ্কার লাভ করে ৷
কিন্তু এটা কোন বিস্ময় নয় ৷ মূল বিষ্ময়টি হলো, তার বয়স যখন পাঁচ বছর
তখন সে তার পরিবারের এক সড়ক দুঘর্টনার কবলে পড়ে এবং সে তার স্মৃতি
শক্তি; এমনকি কথা বলার শক্তিও হারিয়ে ফেলে ৷ একসময় মেহইয়ার হোসাইন
পবিত্র কুরআন পড়া শুরু করে ৷ প্রথম প্রথম তা অত্যন্ত কর্কশ শোনালেও
ধীরে ধীরে সে তার স্বাভাবিক কণ্ঠস্বর ফিরে পায় ৷ অথচ ডাক্তাররা তার
কণ্ঠস্বর ফিরে পাবার ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন ৷
মেহইয়ার হোসাইন প্রতিদিন আড়াই ঘন্টা কুরআন অধ্যয়ন করে মাত্র ছয়
মাসে সম্পূর্ণ কুরআন শরীফ মুখস্থ করে ফেলে ৷ আরেকটি বিস্ময়ের
ব্যাপার হলো সে মাত্র এক মাসে ক্লাস ওয়ান থেকে ক্লাস ফাইভের বইগুলো
মুখস্থ করতে সক্ষম হয় ৷ মেহইয়ার হুসাইন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইসলাম ও
কুরআনের উপর লেকচারও দিয়ে থাকেন ৷
এবার আমরা ক্রীড়াঙ্গনে ইরানী শিশুদের দু'একটি সাফল্যের কথা তুলে
ধরবো ৷ ফারহাদ কোলীযাদে ও রুযবে রোওশানী দু'জনের বয়সই ৭ বছর ৷ কয়েক বছর
আগে তারা ইতালীতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কারাতে প্রতিযোগিতায় ১১
বছরের কম বয়স্কদের গ্রুপে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে ৷ ওই প্রতিযোগিতায়
সকল প্রতিযোগীই ছিল তাদের চেয়ে বয়সে বড় ৷ কিন্তু তারা যোগ্যতা ও
আত্মবিশ্বাসের বলে বলীয়ান হয়ে আন্তর্জাতিক পুরস্কার ছিনিয়ে আনে ৷ ওই
প্রতিযোগিতার সময় এক বিরল ঘটনা ঘটে যায় ৷ ঘটনাটি হচ্ছে,
প্রতিযোগিতায় রেফারীর দায়িত্ব ছিল একজন বর্ণবাদী ইহুদীর ওপর ৷ ওদের
সাফল্যের পর ওই বর্ণবাদী রেফারী হ্যান্ডশেক করার জন্য হাত বাড়িয়ে
দিলে তারা ফিলিস্তিনে ইসরাইলের নির্যাতনের প্রতিবাদে তার সাথে হাত
মেলাতে অস্বীকার করে ৷ ওই ঘটনা ইতালীর বুকে দশ হাজার দর্শকের সামনে
ইরানের সম্মানই কেবল বৃদ্ধি করেনি বরং তাদের সাহসী ভূমিকা প্রমান
করেছে যে তারা ইরানের ইসলামী বিপ্লবের নেতা মরহুম ইমাম খোমেনী
(রহঃ)এর যোগ্য অনুসারী ৷
ইরানের অসংখ্য গৌরবের তালিকায় আরেকটি গৌরবের নাম সাইয়্যেদ জাওয়াদ
আলাভী মোকাদ্দাম ৷ মাত্র ১০ বছর বয়সে সে কিশোর দাবা প্রতিযোগিতায়
বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হবার কৃতিত্ব দেখিয়েছে ৷ ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সে
অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় ৯০টি দেশের ৫০০ প্রতিযোগিকে পেছনে ফেলে সে
ওই কৃতিত্ব অর্জন করে ৷
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের তরুণ শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান সংক্রান্ত
বিভিন্ন আনত্মর্জাতিক প্রতিযোগিতা ও অলিম্পিয়াডে ব্যাপক সাফল্য
অর্জন করেছে ৷ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে ইরান এখন
বিশ্বের দশটি শীর্ষ স্থানীয় দেশের অন্যতম ৷ সুইজারল্যান্ডের জেনেভা
শহরে নতুন প্রযুক্তি ও আবিষ্কার সংক্রান্ত ৩৩তম আন্তর্জাতিক
প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় ৷ চারদিনব্যাপী অনুষ্ঠিত ঐ প্রতিযোগিতায়
ইরানের তরুণ বিজ্ঞানীরা অসাধারণ উদ্ভাবনী নৈপূণ্য প্রদর্শন করে
সবাইকে মুগ্ধ করতে সক্ষম হয় ৷ বিশ্বের ৪২টি দেশের ৬৭৫ জন তরুণ
বিজ্ঞানীর উদ্ভাবনী বা আবিষ্কারগুলো এ প্রদশর্নীতে স্থান পায় ৷
ইরানের স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৮ জন ছাত্র এ প্রতিযোগিতায়
৪৭টি পদক লাভ করে দলগতভাবে চ্যাম্পিয়ন হয় ৷ এ পদকগুলোর মধ্যে ছিল
১৫টি স্বর্ণ, ২৫টি রৌপ্য এবং ৭টি ব্রোঞ্জ ৷ এছাড়াও ইরানী ছাত্ররা
বিশেষ পুরষ্কারগুলোর মধ্যে চারটি পুরষ্কার অর্জন করতে
সক্ষম
হয় ৷
ইরানের সাফল্যের খাতায় সম্প্রতি শাহীন কোরবানী নামের ১৭ বছর বয়সী
এক কিশোরী নাম লিখিয়েছে ৷ তিনি বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ ছাত্রী হিসেবে
জাতিসংঘের অঙ্গসংগঠন ইউনেস্কোর ডক্টরেট পদক লাভ করেন ৷ চিকিত্সা
বিজ্ঞানের ছাত্রী শাহীন এর আগে জ্ঞান-বিজ্ঞান সংক্রান্ত বিভিন্ন
প্রতিযোগিতায় সুইজারল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় সাতটি পদক লাভ করেন ৷
মার্কিন মহাশূণ্য
গবেষণা সংস্থা নাসা তার একটি বিজ্ঞান প্রকল্প
কেনার আগ্রহ প্রকাশ করলে তিনি তা বিক্রি করতে অস্বীকার করেন ৷
উল্লেখ্য, ইরানের ছাত্রছাত্রীরা বিভিন্ন জ্ঞান-বিজ্ঞান ও গবেষণা
সংক্রান্ত প্রতিযোগিতায় মুসলিম বিশ্বে প্রথম, এশিয়ায় দ্বিতীয় এবং
বিশ্বে বর্তমানে দশম স্থানে রয়েছে ৷
(১লা ফেব্রুয়ারি ২০০৭ রংধনু আসরে প্রচারিত) #
ইসলামী বিপ্লব ঃ ঐক্যের আহ্বান
যে-কোনো ঝড়ের পরেই বিধ্বস্ত জনপদে নতুন করে গড়ে ওঠে এক অনাবিল
প্রকৃতি ৷ চারদিকে প্রশান্তির কোমল-মৃদু হাওয়া বয়ে যায় ৷ সবকিছুই
আবার নতুন করে সাজে ৷ ঝড়-ঝঞ্ঝা বিক্ষুব্ধ দীর্ঘ এক পথ পরিক্রমা
শেষে ইরানেও অর্জিত হয়েছিল তেমনি এক প্রকৃতি , তেমনি এক
অনাবিল-প্রশান্তিময় পরিবেশ ৷ এই নতুনত্ব প্রায় দেড় সহস্রাধিক বছর
আগের সোনালী সেই সভ্যতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয় ৷ যেই সভ্যতার
গোড়াপত্তন করেছিলেন মহানবী হযরত মুহাম্মাদ ( সা ) ৷ হ্যাঁ , আমরা
বিপ্লবের কথা বলছি , ইরানের ইসলামী বিপ্লবের কথা ৷ যেই বিপ্লব
বিভিন্ন জাতি, সমাজ ও সংস্কৃতির ওপর প্রভাব ফেলেছিল ব্যাপক ৷ এই
বিপ্লব বিজয়ের মধ্য দিয়ে পাশ্চাত্যের লিবারেলিজম বা উদারনৈতিকতাবাদ
এবং পুঁজিবাদের ওপর ঐশীচিন্তারই বিজয় হয়েছে ৷ বিজয়ের সূচনাতেই এই
বিপ্লব প্রভাব ফেলেছিল বিশ্বব্যাপী আর মুসলিম বিশ্বে ফিরিয়ে এনেছিল
তাদের হারানো সেই সম্মান ও গৌরব ৷
কতোকাল পরে ,কতো কালবোশেখির ঝড়ে
কতো বৃক্ষ-তরুলতা আর প্রাণের দক্ষিণা শেষে
মেঘের পরে মেঘ সরিয়ে এলে তুমি ৷
এলে শতাব্দীর পঞ্চদশে সেই নবীন অমলিন রূপে ৷
তুমি এলে , মাথার পরে বেড়ে ওঠা অর্কিড
হারাতে বসলো তার প্রাণরস
তুমি এলে উদারনীতির অনৈতিকতা আর
ধনবাদের মিথ্যা স্বপন এবং সকল মিথ্যাচার
সকলেরই হলো নিদারুণ পরাজয় ৷
প্রাচীন দেয়ালের শ্যাওলাগুলোর শুরু হলো ক্ষয় ৷
তোমার নামের ব্যবসায়ীরা হারালো তাদের শিরস্ত্রাণ
তুমি এলে , পত্র-পল্লবহীন
চৌদ্দ শ' বছরের প্রাচীন
অমর বৃক্ষটিতে গজালো সবুজ পাতা ৷
সুর হারানো গানের পাখিরা ফিরে পেলো রাগমালা
প্রকৃতিরাজ্যে বেজে উঠলো প্রাণবন্ত সেতারের ঝালা
চারদিকে যেন স্নিগ্ধতার আনন্দ-উত্স÷