![]()
|
|
|
কোরআনের আলো (৫১তম পর্ব ) কোরআনের আলোর আজকের পর্বে আমরা সুরা বাকারার ১৮৩ নম্বর আয়াত থেকে ১৮৬ নম্বর আয়াতের অর্থ ও ব্যাখ্যা নিয়ে আলোচনা করবো । প্রথমেই সুরা বাকারার ১৮৩ নম্বর আয়াতের অর্থ ও ব্যাখ্যা নিয়ে আলোচনা করা যাক । এই আয়াতে বলা হয়েছে “ হে ঈমানদার লোকেরা! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে যেমনটি করা হয়েছিল পূর্ববর্তীদের ওপর যাতে তোমরা খোদাভীরু হও ।” আল্লাহর অন্যতম বিধান যা শুধু ইসলামের বিধান নয়, পূর্ববর্তী ধর্মগুলোতেও এই বিধান ছিল । রোজা হলো একটি অদৃশ্য ইবাদত । আর নামাজ ও হজ্ব দৃশ্যমান ইবাদত । কিন্তু রোজা অদৃশ্য ইবাদত বলে তা দিয়ে নিজকে জাহির করা বা লোক দেখানোর সম্ভাবনা কম । রোজা মানুষের ইচ্ছাকে শক্তিশালী করে । যারা একমাস ধরে সবধরনের খাদ্য-দ্রব্য ও ইন্দ্রীয় তৃপ্তি থেকে দূরে থাকে, তারা অন্যের ধন-সম্পত্তির ব্যাপারে নিজের লোভ-লালসাকে দমন করতে সম হয় । রোজা ধর্মীয় ও মানবীয় দয়া-উদারতাকে উৎসাহিত ও শক্তিশালী করে । যারা একমাস ধরে ক্ষুধার যন্ত্রণা উপলব্ধি করে তারা ক্ষুধার্তদের কষ্ট বুঝতে পারে এবং তাদের সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করে ও সহানুভূতিশীল হয় । রোজা গুনাহ বা পাপ বর্জনের পরিবেশ সৃষ্টি করে । বেশীরভাগ পাপ পেটপূজা ও ইন্দ্রিয় পরায়ণতা থেকে উদ্ভূত । রোজা এই দুই প্রবৃত্তিকে দমনে রেখে দূর্নীতি ও পাপ হ্রাস করে এবং খোদাভীরুতা বৃদ্ধি করে । অবশ্য আহার ও পানীয় বর্জন করা সাধারন মানুষের রোজা । পবিত্র ও মহৎ লোকেরা খাবার ও পানীয়ের পাশাপাশি গোনাও বর্জন করেন । তাহলে এই আয়াতের মূল বক্তব্য হচ্ছে- প্রথমত: রোজা ঈমানের অন্যতম লণ । এটা মানুষের মধ্যে খোদাভীরুতার চেতনাকে শক্তিশালী করে। দ্বিতীয়ত : আল্লাহর বিধান পালন করা আমাদের জন্যই কল্যাণকর । এমন নয়, যে আল্লাহ আমাদের নামাজ ও রোজার মুখাপেক্ষী । এবারে সুরা বাকারার ১৮৪ নম্বর আয়াতের অর্থ ও ব্যাখা করা যাক । এই আয়াতের অর্থ হলো রোজা, নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনের জন্য ফরজ । তোমাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ হলে বা সফরে থাকলে অন্য সময় ঐ সংখ্যক রোজা রাখতে হবে । রোজা যাদের জন্য কষ্টদায়ক যেমন অতি বৃদ্ধদের জন্য, তারা অবশ্যই একজন অভাবগ্রস্তকে অন্নদান করবে । যদি কেউ স্বতস্ফুর্তভাবে সৎকাজ করে, তবে তার পক্ষে তা বেশী কল্যাণকর । যদি তোমরা উপলব্ধি করতে, তবে বুঝতে রোজা রাখাই তোমাদের জন্য বেশী কল্যাণকর । আল্লাহর বিধান যন্ত্রনাদায়ক কিংবা শক্তি হরনকারী নয় । বরং প্রত্যেকেই তার মতা ও শক্তি অনুযায়ী আল্লাহর বিধান পালন করতে পারে । যেমন সারা বছরের মধ্যে মাত্র এক মাস রোজা রাখা ফরজ । এই মাসে কেউ যদি সফরে বা অসুস্থ থাকে তাহলে অন্যান্য মাসে রোজা রাখতে হবে । আর যদি কোন মাসেই রোজা রাখার মতা না রাখে তাহলে রোজার মধ্যে ক্ষুধা সহ্য করার বদলে ক্ষুধার্তকে স্মরণ করে প্রতিটি রোজার পরিবর্তে প্রতিদিন একজন গরীবকে খাবার দিতে হবে । অবশ্য এটা স্পষ্ট, রোজার কাফফারা দিতে গিয়ে কেউ যদি একজনের বেশী মানুষকে খাবার দেয়, তাহলে তা বেশী কল্যাণকর । যদি কোন মানুষ রমজান মাসের রোজার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন হয়, তাহলে সে কখনও এমনটি বলবে না যে, হায় ! আমিও যদি রোজা রাখা থেকে মাফ পেতাম এবং এর পরিবর্তে গরীবকে খাওয়াতে পারতাম ! এই আয়াত থেকে আমরা যে মূল শিক্ষা পেতে পারি, তাহলো ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ ধর্ম এবং এটি প্রত্যেক মানুষের উপযুক্ততা অনুযায়ী বিধান দিয়েছে । তাই রোজার বিধান সফরকারী, অসুস্থ এবং সুস্থদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন রকম । এবারে সুরা বাকারার ১৮৫ নম্বর আয়াতের অর্থ ও ব্যাখ্যা করা যাক, এই আয়াতটির অর্থ হলো : “ পবিত্র রমজান মাসে কোরআন অবতীর্ন হয়েছে । কোরআন সৎপথের স্পষ্ট নিদর্শন এবং সত্য ও অসত্যের পার্থক্যকারী । সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা এই মাস পাবে, তারা যেন এ মাসে রোজা রাখে । কেউ অসুস্থ থাকলে কিংবা ভ্রমনে থাকলে অন্যসময় এ সংখ্যা পূরণ করতে হবে । আল্লাহ তোমাদের জন্য যা সহজ, তাই চান এবং যা তোমাদের জন্য কষ্টকর তা চান না । তাই তোমরা রোজা রাখবে অর্থাৎ রোজার সংখ্যা পূরণ করবে এবং নিজেদেরকে সৎপথে পরিচালিত করার জন্য তোমরা আল্লাহর মহিমা গাইবে ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে। আগের আয়াতে রোজা ফরজ হবার মূলনীতি এবং এর কিছু বিধান তুলে ধরা হয়েছে । এই আয়াতে রমজান মাসে রোজা রাখার কথা নির্দিষ্ট করে বলা হয়েছে । অবশ্য রমজান মাস রোজার চেয়েও যে জন্য বেশী গুরুত্বপূর্ণ তা হলো, এ মাসেই পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছে । মূলত: রমজানের মর্যাদা ও গুরুত্ব কোরআনের জন্যই । এই মাসের শবে ক্বদরের রাত্রিতেই নাজিল হয় পবিত্র কোরআন । মাসের নাম গুলোর মধ্যে শুধু রমজান মাসের নামই কোরআনে স্থান পেয়েছে । রামাদান শব্দের অর্থ পোড়ানো । এই মাসে রোজাদারদের পাপ বা গুনাহ পোড়ানো হয় । ইসলাম একটি সহজসরল ধর্ম । এই ধর্মের ভিত্তি হল সুযোগ সুবিধা ও সরলতা এবং জটিলতা থেকে মুক্তি । তাই রমজান মাসে রোজা রাখা যাদের জন্য কষ্টকর ও অসম্ভব, তারা বছরের অন্য সময়ে বিচ্ছিন্নভাবে ৩০টি রোজা রাখতে পারে । যদি কোন সময়ই তার পে রোজা রাখা সম্ভব না হয়, তাহলে রোজার কাফফারা দিতে হবে । অনুরূপভাবে নামাজের ক্ষেত্রেও যদি অজু করতে অসুবিধা থাকে, তাহলে তায়াম্মুম করার অনুমতি রয়েছে । যদি দাঁড়িয়ে নামাজ পড়া কষ্টকর হয়, তাহলে বসে অথবা শুয়েও নামাজ পড়তে হবে । তাই আল্লাহর কাছে এজন্যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত যে, তিনি মানুষের শক্তি ও সামর্থ অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে বলেছেন এবং কোন ধরনের কড়াকড়ি আরোপ করেন নি । তাহলে এই আয়াতের মূল শিক্ষা হল রমজান মাসে রোজা রেখে আমাদের আত্মাকে পাপের কালিমা থেকে মুক্ত করতে হবে এবং আমাদের অন্তরে কোরআনের প্রভাব সৃষ্টির জন্য পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে । এবারে সুরা বাকারার ১৮৬ নম্বর আয়াতের অর্থ ও ব্যাখ্যা করা যাক । এই আয়াতের অর্থ হলো “আমার দাসগণ যখন আমার সম্পর্কে আপনাকে প্রশ্ন করে, তখন বলে দিন আমি তো কাছেই রয়েছি । আহবানকারী যখন আমাকে আহবান করে, আমি তার আহবানে সাড়া দেই । সুতরাং তারাও আমার ডাকে সাড়া দিক এবং আমাতে বিশ্বাস স্থাপন করুক যাতে তারা ঠিক পথে চলতে পারে, আর পূর্ণতা লাভ করে । কোন এক ব্যক্তি রাসূল (সাঃ)কে প্রশ্ন করেন আল্লাহ কি আমাদের কাছে রয়েছেন যে নিঃশব্দে কিছু প্রার্থনা করলেও শুনবেন অথবা তিনি কি এত দূরে রয়েছেন যে উচ্চস্বরে তার কাছে কিছু চাইতে হবে ? এই প্রশ্নেরই উত্তর দিয়ে আল্লাহ এ আয়াতে বলেছেন যে, “তিনি তার বান্দাদের কাছেই রয়েছেন তারা যতটুকু কল্পনা করে তার চেয়েও তিনি কাছে ”। যেমন আল্লাহ সুরা ক্বাফের ১৬ নম্বর আয়াতে বলেছেন, “আমি মানুষের ঘাড়ের রগের চেয়েও কাছে রয়েছি ”। দোয়া বা প্রার্থনার জন্য নির্দিষ্ট কোন স্থান ও সময়ের দরকার হয়না । মানুষ যে কোন সময় যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে পারে । অবশ্য রমজান মাস দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনার বিশেষ মাস বলেই প্রার্থনা বিষয়ক আয়াত রমজানের রোজা সংক্রান্ত আয়াতের মধ্যে স্থান পেয়েছে । এই ছোট্ট আয়াতে আল্লাহ সাতবার নিজের পবিত্র সত্ত্বার এবং সাতবার বান্দাদের কথা উল্লেখ করেছেন । যাতে মানুষ ও আল্লাহর মধ্যে সম্পর্ক সুদৃঢ় হয় । তাহলে এই আয়াত থেকে আমরা শিখলাম আল্লাহ আমাদের প্রার্থনা ও আহবান শোনেন এবং আমাদের চাহিদা বা অভাব পূরণ করেন । তাই আমরা শুধু তার কাছেই চাইবো ও শুধু তারই নির্দেশ পালন করবো । কারণ আমাদের সৌভাগ্য ও উন্নতি তার প্রতি বিশ্বাসের ওপরই নির্ভর করছে । কোরআনের আলো ( ৫২ তম পর্ব ) কোরআনের আলোর আজকের পর্বে আমরা সূরা বাকারার ১৮৭ নম্বর আয়াত থেকে ১৮৯ নম্বর আয়াতের অর্থ ও ব্যাখ্যা নিয়ে আলোচনা করবো । প্রথমে সূরা বাকারার ১৮৭ নম্বর আয়াতের অর্থ করা যাক । এই আয়াতের অর্থ হল, “রমজানের রাতে স্ত্রী-গমন তোমাদের জন্য বৈধ করা হয়েছে। তারা যেমন তোমাদের পোশাক,তোমরাও তাদের পোশাক। আল্লাহ জানতেন যে,তোমরা আত্ম-প্রতারণা করেছিলে (এ কাজ নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও তোমরা মাঝে মধ্যে তা করেছিলে)। এ জন্যে আল্লাহ তোমাদের প্রতি ক্ষমাশীল হয়েছেন এবং তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করেছেন,সুতরাং এখন তোমরা স্ত্রী-গমন করতে পার এবং আল্লাহ তোমাদের জন্য যা বিধিবদ্ধ করেছেন,তা কামনা কর,আর তোমরা পানাহার কর যতক্ষণ রাতের কালোরেখা থেকে ভোরের শুভ্ররেখা তোমাদের কাছে স্পষ্ট হয়। এরপর রাত্রির আগমণ পর্যন্ত তোমরা রোজা পূর্ণ কর এবং তোমরা মসজিদে এতেকাফ অবস্থায় তাদের সাথে মিলিত হয়োনা। এইগুলো আল্লাহর সীমারেখা। তাই গোনাহর উদ্দেশ্যে এগুলোর নিকটবর্তী হয়োনা। এভাবে আল্লাহ তার নিদর্শনাবলী মানব-জাতির জন্য সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, যেন তারা সংযত হয়।” ইসলামের সূচনা লগ্নে রোজার বিধান কিছুটা কঠিন ছিল। রমজান মাসে দিনের মত রাতেও স্ত্রীর সাথে মেলা-মেশা নিষিদ্ধ ছিল। এমনকি শুধু রাতের ঘুমের আগেই পানাহার করা যেত। কিন্তু অনেক মুসলমান আল্লাহর এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি। অর্থাৎ তারা রমজানের রাতে পেট ও যৌন প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারেননি। কোরআনের ভাষায়- তারা নিজেদেরকেই প্রতারিত করেছে। এ অবস্থায় আল্লাহ এই পরীক্ষামূলক নির্দেশ পরিবর্তন করে রমজানের রাতের বেলায় পানাহার ও স্ত্রী-সংসর্গকে বৈধ করে দেন; যাতে তাদেরকে আল্লাহর নির্দেশের অবাধ্য হতে না হয়। আল্লাহ তাদের এই নির্দেশ অমান্যজনিত গোনাহও মাফ করে দেন। অবশ্য যারা মসজিদে এতেকাফ অবস্থায় থাকবে,তাদের জন্য স্ত্রীর সাথে মেলামেশা বৈধ নয়। এই আয়াতে দাম্পত্য জীবনের সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করে বলা হয়েছে যে,স্বামী ও স্ত্রী একে অপরের জন্য পোশাকস্বরুপ। পোশাক একদিকে মানুষের দোষত্রুটি ঢেকে রাখে। অন্যদিকে পোশাক মানুষের সৌন্দর্য-চর্চারও মাধ্যম। স্বামী ও স্ত্রী একে অপরকে বিচ্যুতি থেকে রার পাশাপাশি পরস্পরের জন্য প্রশান্তি ও সৌন্দর্যেরও মাধ্যম। পোশাক যেমন মানুষের শরীরকে উষ্ণ রাখে,তেমনি স্বামী ও স্ত্রী পরিবারকে প্রাণচঞ্চল ও বিষাদমুক্ত রাখে। আর লক্ষ্যণীয় বিষয় হল, এক্ষেত্রে স্বামী ও স্ত্রীর সমান ভূমিকা। এবারে এই আয়াতের শিক্ষণীয় দিকগুলো একে একে তুলে ধরছি। প্রথমতঃ ইসলামী বিধানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, কোন বিধান পালন কঠিন হ'লে-সেক্ষেত্রে আল্লাহর পক্ষ থেকে সহজতর বিধান দেয়া হয়। দ্বিতীয়তঃ আল্লাহর নিদের্শ অমান্য করার অর্থ হ’ল-নিজের ওপর জুলুম করা বা নিজের ওপর প্রতারণা করা। কারণ এর জন্য আল্লাহ ক্ষতিগ্রস্থ না হয়ে নির্দেশ অমান্যকারীই ক্ষতিগ্রস্থ হবে। তৃতীয়তঃ ইসলাম বৈরাগ্যের ধর্ম নয়। তাই দিনের বেলা ইবাদতের পর ইসলাম রাতে বৈধ আরাম আয়েশের অনুমতি দেয়। এটা ইসলামের পূর্ণতার নিদর্শন এবং মানুষের সার্বিক কল্যাণই যে ইসলামের লক্ষ্য-তা এই বিধান থেকে বোঝা যায়। চতুর্থতঃ আল্লাহ যখন মানুষের প্রবৃত্তির বৈধ চাহিদা পূরণের সুযোগ দেন,তখন পাপে লিপ্ত হবার কোন অজুহাত থাকেনা। পঞ্চমতঃ পাপের কাছাকাছি হলেই পাপ মানুষকে গ্রাস করে। তাই আল্লাহ পাপে লিপ্ত হতে নিষেধ করার জন্য পাপের ধারে কাছেও না যাবার কথা বলেছেন। ষষ্ঠতঃ দিনের বেলা রোজা রাখা বা রাতে আরাম-আয়েশ করা-এসব কিছুরই লক্ষ্য হ’ল-খোদাভীতি অর্জন ও পাপ থেকে দূরে থাকা। এবারে সূরা বাকারার ১৮৮ নম্বর আয়াতের অর্থ করা যাক। এই আয়াতের অর্থ হ’ল-“তোমরা নিজেদের মধ্যে একে অন্যের ধন অন্যায় ভাবে গ্রাস করোনা এবং মানুষের ধন-সম্পত্তির কিছু অংশ জেনে-শুনে অন্যায়ভাবে গ্রাস করার জন্য বিচারকদেরকে ঘুষ দিওনা।” এই আয়াতে অবিচার ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সমাজে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টিকারী দুই ধরনের গোনাহর কথা উল্লেখ করে মুসলমানদেরকে তা থেকে কঠোর ভাবে বিরত থাকার আহবান জানানো হয়েছে। প্রথমতঃ অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করা এবং দ্বিতীয়টি হ’ল মানুষের সম্পদ গ্রাসের জন্য বিচারককে ঘুষ দেয়া।পবিত্র কোরআন এই দু’টি কাজকে ‘বাতিল’ও ‘ইসম’ বলে নিন্দা করেছে, যার অর্থ হ’ল বিবেকের দৃষ্টিতে অন্যায় এবং আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ ও অবৈধ। অনেকে তাদের অবৈধ কাজকে বৈধ দেখানোর জন্য ঘুষকে‘উপহার’ বলে উলে−খ করে। ইতিহাসে দেখা যায়,কোন এক ব্যক্তি ইমাম হযরত আলী (আঃ)র ঘরে হালুয়া নিয়ে এসেছিল এই আশায় যে,ইমাম তার পে বিচারে রায় দিবেন। ইমাম ঐ ব্যক্তিকে বলেন, খোদার কসম আমাকে ৭টি রাজ্য দেয়ার বিনিময়ে একটা পিঁপড়ার মুখ থেকেও যদি অন্যায়ভাবে একটা যবের ছাল কেড়ে নিতে বলা হয়, আমি তা করবোনা। এই আয়াতে শিণীয় দিকগুলো হ’ল- প্রথমতঃ ইসলাম জনগণের সম্পদকে সম্মান করে এবং অন্যের সম্পদ দখলের অনুমতি দেয়না। দ্বিতীয়তঃ মালিকানা বৈধ ও যথাযথ হতে হবে।অন্যায়ভাবে জনগণের সম্পদ কেড়ে নেয়া হলে তা প্রকৃত মালিকানা হবেনা এবং এমনকি বিচারকের রায়ও অবৈধ মালিকানাকে বৈধ করতে পারেনা। তৃতীয়তঃ ঘুষ দেয়া ও নেয়া হারাম। ঘুষকে পারিশ্রমিক বা উপহার বললেও তা বৈধ হবেনা। এবারে সূরা বাকারার ১৮৯ নম্বর আয়াতের অর্থ করা যাক। এই আয়াতের অর্থ হলো, “হে নবী, লোকেরা আপনাকে নতুন চাঁদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছে,আপনি বলুন, ওটা মানুষ এবং হজ্বের জন্য সময় নির্দেশক।পেছন দিক দিয়ে ঘরে প্রবেশে তোমাদের জন্য কোন পূণ্য নেই, বরং পুণ্য তারই,যে সংযম বা তাকওয়া অবলম্বন করেছে। তোমরা দরজা দিয়ে ঘরসমূহে প্রবেশ করবে। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর,যাতে তোমরা সৎকর্ম সম্পাদনকারী বা সফলকাম হতে পার।” ইসলাম ধর্মের অন্যতম বিশেষ সুবিধে হ’ল এই যে, এর বিধানগুলো প্রকৃতির সময়ের সাথে তুলনা করে প্রণীত হয়েছে। যেমন-নামাজের বিভিন্ন সময় নির্ধারন করা হয় সূর্যোদয়,সূর্যাস্ত ,মধ্যআকাশে সূর্যের অবস্থান প্রভৃতির মাধ্যমে। চাঁদ দেখার মাধ্যমে রমজানের রোজা রাখা হয় এবং হজ্জ পালন করা হয়। আর প্রকৃতির ক্যালেন্ডারকে সব মানুষই মেনে চলে। মানুষের জীবন পরিচালনার জন্য দিনপঞ্জী বা ক্যালেন্ডারের প্রয়োজন রয়েছে। চাঁদের আবর্তন তথা নতুন চাঁদ ক্যালেন্ডার বা পঞ্জিকা নির্ধারক এবং এর মাধ্যমে পার্থিব কাজ ছাড়াও ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান সময়মত পালন করা যায়। হজ্জের সময় সম্পর্কিত আয়াতের সূত্র ধরে এ আয়াতে ইসলাম পূর্ব-যুগের মুশরিকদের একটি কূ-সংস্কারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কুসংস্কারটি হ’ল-এহরামের পোশাককে বৈষয়িক জীবনাচার বর্জনের প্রতীক ধরে নিয়ে এহরামের সময় স্বাভাবিকভাবে ঘরে প্রবেশ না করে মুশরিকরা পেছনের দরজা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করতো। কিন্তু পবিত্র কোরআন এসব কাজকে ইবাদতের মধ্যে যুক্ত করা কুসংস্কার বলে উল্লেখ করেছে এবং কোরআন বলছে, “যদি সৎকাজ করতে চাও তবে খোদাভীরু হও ও একই সাথে যে কোন কাজ স্বাভাবিক পন্থায় কর। হজ্জের সময় নির্ধারনের জন্য তোমরা যেরকম নতুন চাঁদকে ব্যবহার কর। ঠিক তেমনি ভাবে আল্লাহর |