![]()
|
|
|
কোরআনের আলো ( সূরা হুদ- পর্ব : ১১ ) কোরআনের আলোর এ পর্বে আপনাদেরকে স্বাগত জানাচ্ছি। এবারে আমরা সূরা হুদের ৪২ থেকে ৪৪ নম্বর আয়াত পর্যন্ত আলোচনা করবো। প্রথমেই ৪২ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করা যাক। এ আয়াতে বলা হয়েছে, "পর্বত প্রমাণ তরঙ্গের মধ্যে এ (নৌকা) তাদের নিয়ে বয়ে চললো, নূহ তার পুত্রকে যে (তাদের ডাকে) পৃথক ছিল, ডেকে বললেন, হে বৎস আমাদের সঙ্গে আরোহন কর এবং অবিশ্বাসী কাফেরদের সঙ্গী হয়ো না।" হযরত নূহ (আঃ) বহু বছর বেঁচে ছিলেন এবং মানুষকে সৎ পথে আনার জন্য তিনি বহুকাল ধরে চেষ্টা চালান। কিন্তু এক পর্যায়ে দেখা গেল তার সম্প্রদায়ের মুষ্টিমেয় মানুষ ছাড়া আর কেউ সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর উপর বিশ্বাস স্থাপন করতে রাজী হলো না, বরং তারা হযরত নূহ(আঃ)কে নিয়ে নানাভাবে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করা শুরু করলো। ফলে গোয়ার্তুমী ও সত্যকে প্রত্যাখ্যান করার জন্য তাদের উপর ঐশী শাস্তি অনিবার্য হয়ে পড়ে। আল্লাহ তার বিশিষ্ট পয়গম্বর হযরত নূহ (আঃ)কে বিষয়টি অবহিত করলেন। আল্লাহর নির্দেশ মত হযরত নূহ একটি বিশাল কিশতী বা নৌকা তৈরী করলেন। এরপর একদিন আল্লাহর শাস্তি দুনিয়াকে গ্রাস করলো, মাটি থেকে পানি উদগত হতে লাগলো এবং মুষলধারে বৃষ্টিপাত হতে থাকলো। কোরআনের বক্তব্য অনুযায়ী পাহাড়ের মত তরঙ্গ পৃথিবীকে গ্রাস করলো, মহাপ্লাবনে সব কিছুই তছনছ হয়ে গেল। হযরত নূহ (আঃ) এর সঙ্গী সাথী এবং নৌকায় আশ্রিত অন্যান্য প্রাণী এই বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পেলেন। কিন্তু বিষ্ময়ের বিষয় হচ্ছে, হযরত নূহ (আঃ) এর পুত্র কেনআন কাফেরদের দলভুক্ত হওয়ার কারণে নৌকায় উঠতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। কিন্তু যখন মহাপ্লাবনের প্রাদুর্ভাব দেখা দিল, হযরত নূহ (আঃ) এর মনে যেন পিতৃস্নেহ জেগে উঠলো, তিনি স্বস্নেহে পুত্র কেনআনকে কাফেরদের দল ত্যাগ করে মোমিনদের কাতারে শামিল হওয়ার আহ্বান জানালেন। সন্তানের প্রতি বাবা মায়ের যে দরদ এবং তাদের মঙ্গল ও ভাবিষ্যতের ব্যাপারে পিতা মাতার যে দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে, কেনআনের প্রতি হযরত নুহ (আঃ)এর আহ্বানে তা ফুটে উঠেছে। এছাড়া অসৎ সঙ্গ বা কাফের মুশরেকদের সাথে ওঠা বসার কারণে যে কেউ এমনকি পয়গম্বরের সন্তানও যে পথভ্রষ্ট হয়ে যেতে পারে, এই আয়াত তারই উদাহরণ। এবারে সূরা হুদের ৪৩ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করা যাক। এ আয়াতে বলা হয়েছে, অর্থাৎ "(হযরত নূহের পুত্র) বললো, আমি এমন এক পর্বতে আশ্রয় নেব যা আমাকে প্লাবন হতে রক্ষা করবে। (হযরত নূহ) বললেন, আজ আল্লাহর বিধান হতে রক্ষা করার কেউ নেই। (রক্ষা পাবে) সেই যাকে আল্লাহ দয়া করবেন। এরপর তরঙ্গ ওদের বিচ্ছিন্ন করে দিল এবং (হযরত নূহের পুত্র) নিমজ্জিতদের অন্তর্ভুক্ত হলো।" হযরত নূহ(আঃ) এর অবাধ্য পুত্র পিতার শেষ আহ্বান বিবেচনায় না এনে গোয়ার্তুমীর আশ্রয় নেয়। সে ভেবেছিল পাহাড়ের চূড়ায় উঠে গেলেই প্লাবনের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। তার এই বোধ ছিল না যে,আল্লাহ সর্বশক্তিমান, পাহাড়-পর্বত সব কিছু তারই নির্দেশের অধীন। আল্লাহ চাইলে পর্বত চূড়াও যে তার ধ্বংসের উপযুক্ত স্থান হয়ে উঠতে পারে এই বিশ্বাস তার ছিল না। যাইহোক পিতার সরল আহ্বান পুত্রের মনে রেখাপাত করতে ব্যর্থ হয়। ফলে ক্ষণিকের মধ্যেই এক উত্তাল তরঙ্গ নূহের পুত্রকে ভাসিয়ে নিয়ে যায় মুত্যুর গহিনে। যারা প্রকৃত মোমিন তারা বিপদের সময় আল্লাহকে স্মরণ করেন। তারই সাহায্য কামনা করেন। আর যাদের মনে ইমানের স্থিতি দুর্বল অথবা যারা মুশরেক তারা বিপদে পার্থিব বা জড়বস্তুকে অবলম্বন করে উদ্ধার পাওয়ার চেষ্টা করে। ফলে আল্লাহর সাহায্য থেকে তারা বঞ্চিত হয়। এবার সূরা হুদের ৪৪ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করা যাক। এ আয়াতে বলা হয়েছে, অর্থাৎ "(আল্লাহর শাস্তি ও কাফেরদের ধ্বংসের পর) বলা হলো, হে পৃথিবী! তুমি পানি শোষণ করে নাও এবং হে আকাশ তুমি ক্ষান্ত হও,এরপর বন্যা প্রশমিত হলো এবং কার্য সমাপ্ত হলো, নৌকা জুদী পর্বতের উপর স্থির হলো এবং বলা হলো ধ্বংসই সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়ের পরিণাম।" এই আয়াতে বিশ্ব ইতিহাসের একটি বিরল ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে, হযরত নূহ (আঃ) এর সময়কার মহাপ্লাবনের সত্যতা এখন অনস্বীকার্য। ঐ মহাপ্লাবনে সব কিছুই ধ্বংস হয়ে যায় এবং সৎ ও ইমানদার মানুষের মাধ্যমে পুণরায় পৃথিবীতে মানুষের বংশ বিস্তার ঘটে। পবিত্র কোরআনে এই ঘটনাটি আল্লাহর শাস্তি হিসাবে পরিণত হয়েছে। হযরত নূহের নৌকা যে জুদি পর্বতে এসে ভিড়েছিল তা কোথায় অবস্থিত সে ব্যাপারে মুফাসসিরদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। কারো মতে জুদী পর্বত তুরস্কের আরারাত পর্বতমালার অংশ। আবার কেউ মনে করেন ইরাকের মুসেলের আশেপাশে এই পর্বতটি অবস্থিত। কোন কোন মুফাসসির ভিন্ন মতও পোষণ করেন। হযরত নূহ(আঃ) এর সময়কার এই ঘটনা থেকে মানুষের শিক্ষা নেয়া উচিত। অন্যায় পাপাচার এবং সৃষ্টিকর্তাকে অস্বীকার করার পরিণতি যে কত ভয়াবহ হতে পারে তা এই ঘটনা থেকেই উপলদ্ধি করা যায়। এছাড়া বন্যা ও ভুমিকম্পের মত প্রাকৃতিক দুর্যোগ যে অনেক ক্ষেত্রে মানুষের পাপের পরিণতিতেই হয়ে থাকে তাও এ ঘটনা থেকে আমরা উপলদ্ধি করতে পারি। ( আপডেট : ৫ সেপ্টেম্বর -২০০৭) # কোরআনের আলো ( সূরা হুদ- পর্ব : ১২ ) কোরআনের আলোর এ পর্বে আপনাদেরকে স্বাগত জানাচ্ছি। এবারের আলোচনায় সূরা হুদের ৪৫ থেকে ৪৯ নম্বর পর্যন্ত আয়াত নিয়ে আলোচনা করবো। প্রথমেই ৪৫ ও ৪৬ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করা যাক। এ দুটি আয়াতে বলা হয়েছে, অর্থাৎ "নূহ তার প্রতিপালককে সম্বোধন করে বললেন, হে আমার প্রতিপালক, আমার পুত্র আমার পরিবারভুক্ত এবং (আমার পরিজনদের মুক্তির ব্যাপারে) আপনার প্রতিশ্রুতিও সত্য এবং আপনি বিচারকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বিচারক। (এর জবাবে) আল্লাহ বললেন, হে নূহ! সে তোমার পরিবারভুক্ত নয়, সে অসৎ কর্মপরায়ণ। সুতরাং যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই সে বিষয়ে আমাকে অনুরোধ করো না। আমি তোমাকে উপদেশ দিচ্ছি তুমি যেন অজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত না হও।" এর আগের কয়েকটি আয়াতের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে এবং আপনাদেরও নিশ্চয় মনে আছে যে, হযরত নূহ (আঃ)এর পুত্র নৌকায় উঠতে রাজী হয়নি এবং সে অবিশ্বাসী কাফেরদের সাথে মহাপ্লাবনে নিমজ্জিত হয়েছে। এই ঘটনার পর আল্লাহর সাথে হযরত নূহ (আঃ)এর যে কথোপকথন হয় ৪৫ ৪৬ নম্বর আয়াতে তাই ইঙ্গিত করা হয়েছে। হযরত নূহ আল্লাহকে বলেছিলেন, হে আমার প্রতিপালক আমার পরিজনদের রক্ষার ব্যাপারে আপনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আর আপনার প্রতিশ্রুতি সন্দেহাতীতভাবে সত্য। তাহলে আমার পুত্র যে কিনা আমার পরিবারেরই অংশ, সে কেন নিমজ্জিত হলো? আল্লাহ এর জবাবে বলেছিলেন, আমার প্রতিশ্রুতি সত্য, তবে তোমার পুত্র তোমার পরিজনদের অংশ হিসাবে পরিগণ্য হবে না। কারণ সে ইমান আনতে অস্বীকার করেছে এবং দুরাচারদের কাতারে শামিল হয়ে নিজেও অসৎকর্মপরায়ণ হিসাবে বিবেচিত হয়েছে। এসব কথোপকথন থেকে বোঝা যায়, হযরত নূহ (আঃ) এটা সুস্পষ্টভাবে জানতেন না বা তিনি বুঝতে পারেননি যে, তার পুত্র সত্যিই কাফের হয়ে গেছে এবং সেও নিমজ্জিত হতে যাচ্ছে। তাই যখন তিনি মোমিন বিশ্বাসীদেরকে কিশতিতে উঠানোর নির্দেশ পেলেন, তখন পুত্রকেও তাতে উঠার জন্য বলেছিলেন। কিন্তু যখন তার পুত্র কেনআন নৌকায় উঠতে অস্বীকৃতি জানালো তখন তিনি বলেছিলেন, " তুমি কাফেরদের অনুগামী হয়ো না। তিনি এটা বলেন নি যে, তুমি কাফেরদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না। এতে বোঝা যায়, কেনআনের কাফের হওয়ার বিষয়টি হযরত নূহ (আঃ)এর কাছে সুস্পষ্ট ছিল না। এ জন্যই আল্লাহপাক হযরত নূহকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, যে বিষয়ে তুমি অবহিত নও সে বিষয়ে তুমি আমার কাছে কোন আবেদন করো না, কারণ এটা অজ্ঞদের কাজ। হযরত নূহ (আঃ)এর অনুসারীরা নবীর পরিজন হিসাবে বিবেচিত হয়ে মহা প্লাবন থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন। অপর দিকে ইমান না আনার কারণে হযরত নূহের পুত্রও নবীর পরিজন হিসাবে বিবেচিত হয়নি। বরং সেও কাফেরদের সাথে নিমজ্জিত হয়েছে। এ থেকে বোঝা যায়, আত্মীয়তার চেয়ে ধর্মীয় বন্ধনের গুরুত্ব অনেক বেশী। আল্লাহর বিধানে ইমান ও তাকওয়া হচ্ছে মুখ্য বিষয়। নবীর পুত্র হিসাবে কোন বাড়তি শ্রেষ্ঠত্ব নেই। এই আয়াত থেকে আমরা আরেকটি বিষয় উপলদ্ধি করতে পারি তা হচ্ছে, আল্লাহর কাছে কোন দোয়া বা আর্জি পেশ করার পর তা কবুল না হলে তাতে মনক্ষুন্ন হওয়া উচিত নয়। কারণ অনেক কিছুই আমরা জানি না যা আল্লাহ পাক জানেন। এবার এই সূরার ৪৭ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করা যাক। এ আয়াতে বলা হয়েছে, অর্থাৎ " হযরত নূহ (আঃ) বললেন, হে আমার প্রতিপালক, যে বিষয়ে আমার জানা নেই, সে বিষয়ে আপনাকে যাতে অনুরোধ না করি এ জন্য আমি আপনার আশ্রয় চাচ্ছি। আপনি যদি আমাকে ক্ষমা না করেন এবং দয়া না করেন তবে আমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবো।" আল্লাহ তালার উপদেশ পাওয়ার পর হযরত নূহ (আঃ) তার অনুচিত আর্জির জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং তার রহমত ও কল্যাণ কামনা করে দোয়া করেন। কারণ পয়গম্বর ভালো করেই জানেন ঐশী নসিহত লাভের পর কিভাবে সৃষ্টিকর্তার সামনে বিনয় প্রকাশ করা উচিত। মানবীয় দুর্বলতার কারণে মানুষ ভুল করে অনুচিত, অসঙ্গত আচরণ করে ফেলে, তাই ভুল শোধরানোর জন্য ঐশী বিধানে তওবা, এস্তেগফার অর্থাৎ অনুশোচনা ও ক্ষমা প্রার্থনার বিধান রাখা হয়েছে। তওবা, এস্তেগফারের মাধ্যমে মানুষ পুণরায় ঐশী কল্যাণ লাভের সৌভাগ্য অর্জন করতে পারে। কারণ আল্লাহর রহমত ও অনুগ্রহ সাধারণ মানুষের জন্য তো বটেই, নবী রাসূলদের জন্যও তা জরুরী। এছাড়া নবী রাসূলরাও কাঙ্খিত লক্ষ্যে উপনীত হতে পারবে না। যারা এ থেকে বঞ্চিত হয় তারা প্রকৃতই ক্ষতিগ্রস্ত। এবারে সূরা হুদের ৪৮ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করা যাক। এ আয়াতে বলা হয়েছে, অর্থাৎ "হযরত নূহকে উদ্দেশ্য করে বলা হলো, হে নূহ! অবতরণ কর আমার দেয়া শান্তিসহ এবং তোমার প্রতি ও যে সমস্ত সম্প্রদায় তোমার সাথে আছে তাদের প্রতি কল্যাণসহ। অন্যান্য সম্প্রদায় (যারা নাজাতপ্রাপ্ত) আমি তাদেরকে জীবন উপভোগ করতে দেব। অত:পর (অবিশ্বাসী কাফের ও ধর্মের ব্যাপারে উদাসীনদের) উপর আমার কঠিন শাস্তি অর্পিত হবে।" বন্যার পানি নিঃশেষ হওয়ার পর কিশতি যখন মাটি পেল, হযরত নূহ (আঃ) সঙ্গী-সাথীসহ নৌকা থেকে নেমে আসলেন। তারা আল্লাহর অফুরন্ত কল্যাণ এবং বিশেষ অনুগ্রহ লাভের সৌভাগ্য অর্জন করলেন। তাদের মাধ্যমেই পৃথিবীতে পুণরায় মানব বংশের ধারা রচিত হলো। এখানে লক্ষ্য করার মত চমৎকর একটি বিষয় হচ্ছে, হযরত আদম(আঃ)কে আল্লাহতালা অবতরণের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে হযরত নূহ (আঃ)ই মানব জাতির দ্বিতীয় পিতা। মহাপ্লাবনে সব ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়ার পর হযরত নূহ ও তার অনুসারী মোমিনদের মাধ্যমেই পৃথিবীতে পুণরায় মানব বংশের বিস্তার ঘটে। এরপর ক্রমান্বয়ে মানব জাতি পুণরায় মোমিন ও কাফের দুই শ্রেণীতে বিভক্ত হয়ে পড়ে। মোমিনদের প্রতি আল্লাহর দেয়া কল্যাণ শান্তি, সৌভাগ্য ও প্রাচুর্য বয়ে আনে। অপর দিকে অবিশ্বাসী কাফেররা যে কল্যাণপ্রাপ্ত হয় তা বস্তুজগতেই তাদেরকে তৃপ্ত করে। আল্লাহ কোন অবিশ্বাসী কাফেরকে পার্থিব জগতের সুখ বা সম্পদ থেকে বঞ্চিত করেন না। তিনি সকলকেই তা প্রদান করেন এজন্য যে, সকলেই যেন ঐশী পুরস্কার ও শাস্তির বিষয়টি উপলদ্ধি করতে পারে। এবার সূরা হুদের ৪৯ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করা যাক। এ আয়াতে বলা হয়েছে, অর্থাৎ "এ সমস্ত অদৃশ্য লোকের সংবাদ আমি তোমাকে (হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) কে) ঐশী বাণী দ্বারা অবহিত করেছি যা এর আগে তুমি জানতে না এবং তোমার সম্প্রদায়ও জানতো না, সুতরাং ধৈর্য্য ধারন কর, শুভ পরিণাম সাবধানীদের জন্য।" এই আয়াতের মধ্য দিয়ে হযরত নূহ (আঃ) ও তার সম্প্রদায়ের বর্ণনা শেষ হয়েছে। ঘটনা বর্ণনার পর এই আয়াতে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)কে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে, এই ঘটনা আপনার জন্য এবং আপনার উম্মতের জন্য শিক্ষণীয় হয়ে থাকবে। এ ঘটনা থেকে বোঝা গেল,যারা মোমিন এবং পবিত্র অন্তরের অধিকারী বিজয় তাদের জন্য অবধারিত। তবে এই বিজয় শর্ত যুক্ত। স্থিতিশীল ধৈর্য্য এবং দৃঢ়তা চুড়ান্ত বিজয়ের জন্য অবশ্যম্ভাবী। যেমনি হযরত নূহ (আঃ)তার অনুসারীরা ধৈর্য্য, সহনশীলতা এবং চিত্তের দৃঢ়তার মাধ্যমে চূড়ান্ত বিজয় অর্জনে সক্ষম হয়েছিলেন। ( আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর -২০০৭) # কোরআনের আলো ( সূরা হুদ- পর্ব : ১৩ ) কোরআনের আলোর এ পর্বে আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। এ পর্বে আমরা সূরা হুদের ৫০ থেকে ৫৬ নম্বর আয়াত পর্যন্ত আলোচনা করবো। প্রথমেই ৫০ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করা যাক। এ আয়াতে বলা হয়েছে, অর্থাৎ "আদ জাতির প্রতি আমি তাদের ভাই হুদকে প্রেরণ করেছি। তিনি (তাদেরকে) বললেন, হে আমার জাতি! আল্লাহর বন্দেগী কর, তিনি ছাড়া তোমাদের কোন উপাস্য নেই, তোমরা তো কেবল মিথ্যা রচনাকারী।" হযরত নূহ (আঃ) ও তার অনুসারীদের বিবরণ দেয়ার পর এই আয়াত থেকে হযরত হুদ (আঃ) ও তার সম্প্রদায়ের বর্ণনা শুরু হয়েছে। আর এজন্যই এই সূরাটি পরিচিত হয়েছে সূরা হুদ নামে। বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে যে, হযরত নূহ (আঃ) মৃত্যুর আগে তার অনুসারীদেরকে বলেছিলেন, আমার মৃত্যুর পর অনেক বছর কোন নবী-রাসুলের আগমন ঘটবে না। ফলে পৃথিবীতে আগুন বা খোদাদ্রোহী শক্তির উত্থান ঘটবে, এরপর আমার বংশ ধারা থেকে একজন আগমন করবেন যিনি মানুষকে সত্যের দিকে আহ্বান জানাবেন এবং তাগুতের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবেন আর তার নাম হবে হুদ। এই আয়াতের শিক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, প্রথমতঃ সকল নবী-রাসূল একত্ববাদের প্রচার করেছেন। তাদের কথার মর্মার্থ এক ও অভিন্ন, অর্থাৎ সৃষ্টিকর্তা এক এবং একক, কেবল তারই উপাসনা করতে হবে। দ্বিতীয়তঃ আল্লাহর সাথে শিরক করা বা তার অংশী স্থাপন করার অর্থ হচ্ছে সৃষ্টিকর্তাকে অপমান করা। শিরকের অর্থ এই দাঁড়ায় যে, সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ এককভাবে এই বিশ্বজগত পরিচালনা করতে সক্ষম নন। তাই তার জন্য শরীক বা অংশীদার প্রয়োজন। ঐশী ধর্মগুলো এবং সকল নবী রাসূল শিরক বা অংশীবাদকে অমার্জনীয় পাপ বলে মানবজাতিকে সতর্ক করে দিয়েছেন। এবার সূরা হুদের ৫১ ও ৫২ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করা যাক। এ দুই আয়াতে বলা হয়েছে, অর্থাৎ "হে আমার সম্প্রদায়! আমি সত্য ধর্ম প্রচারের জন্য তোমাদের নিকট শ্রমফল কামনা করি না, আমার শ্রমফল রয়েছে তারই নিকট যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। তোমরা কি অনুধাবন করবে না? হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর, অত:পর তার দিকে প্রত্যাবর্তন কর, তিনি তোমাদের জন্য আকাশ থেকে বৃষ্টিধারা প্রেরণ করবেন এবং তোমাদেরকে আরও শক্তি দিয়ে শক্তি বৃদ্ধি করবেন। আর তোমরা অপরাধী হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না।" শিরক বর্জন এবং একত্ববাদে বিশ্বাস স্থাপনের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি হযরত হুদ (আঃ) তার সম্প্রদায়কে পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা এবং তাওবা করতে বলেছেন। কারণ এর ফলে মানুষের অন্তর পাপ-পঙ্কিলতা থেকে পবিত্র হয় এবং আল্লাহর বিশেষ কৃপা লাভের পথ সুগম হয়। এই আয়াত থেকে বোঝা যায় যে, পাপের জন্য তওবা এবং ক্ষমা প্রার্থনার ফলে খরা ও দুর্ভিক্ষের মত নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা পাওয়া য়ায়। পাশাপাশি আল্লাহর বিশেষ রহমত স্বরূপ পরিমিত বৃষ্টিপাত হয়, যার পরিণতিতে ফসল ভালো উৎপন্ন হয় যা সমাজ ও মানুষের মনে বাড়তি শক্তি যোগায়। একজন মানুষ যখন আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং অতীত পাপের জন্য তওবা করে তখন আল্লাহ ইহজগতেও তাকে পুরস্কৃত করেন। পার্থিব পুরস্কার হিসাবে আল্লাহ পাক তার ধন-সম্পদ বৃদ্ধি করেন এবং সমাজে প্রভাব প্রতিপত্তি দান করেন। মানুষকে আত্মিক পরিশুদ্ধির মাধ্যমে আল্লাহর বিশেষ কৃপা লাভের যোগ্য করে তোলার জন্যই যুগে যুগে নবী-রাসূলদের আগমন হয়েছে। তারা ব্যক্তি ও সমাজকে পরিশুদ্ধ করা এবং তাওহীদবাদী আদর্শ সমাজ গঠনের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। এবার এই সূরার ৫৩,৫৪ ও ৫৫ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করা যাক। এই তিনটি আয়াতে বলা হয়েছে, অর্থাৎ " তারা বললো, হে হুদ! তুমি আমাদের নিকট কোন স্পষ্ট প্রমাণ আননি, তোমার কথায় আমরা আমাদের উপাস্যদের পরিত্যাগ করবো না এবং আমরা তোমার উপর বিশ্বাস করি না। '' আমরাতো এটা বলি যে, আমাদের উপাস্যদের মধ্যে কেউ তোমার উপর অশুভ ছায়া ফেলেছে। তিনি বললেন, আমি আল্লাহকে স্বাক্ষী করছি এবং তোমরাও সাক্ষী হও যে, তোমরা যাকে আল্লাহর অংশী কর তাদের ব্যাপারে আমি বিতৃষ্ণ। আল্লাহকে বাদ দিয়ে তোমরা সকলে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র কর এবং আমাকে কোন অবকাশ দিও না।" হযরত হুদ (আঃ) যখন এক আল্লাহর উপাসনা করার জন্য এবং অতীত পাপের জন্য অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানালেন, তখন সমাজের অধিকাংশ মানুষই তার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করলো। তারা সোজাসুজি বলে দিল, আমরা আমাদের বাবা-দাদার ধর্ম, মূর্তিপুজা এসব কিছুই বাদ দিতে পারবো না। আর তোমার দাবীও আমাদের বিশ্বাস হয় না। বরং আমাদের মনে হয়, দেব-দেবীর বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে তোমার উপর হয়তো তাদের কুপ্রভাব পড়েছে। তাই তোমার নিশ্চয় মাথা খারাপ হয়ে গেছে এবং উল্টো-পাল্টা বলে যাচ্ছো। সত্যের আহ্বানের ব্যাপারে মানুষের এই প্রতিক্রিয়া চিরাচরিত। কুসংস্কার ও বিভ্রান্তিতে নিপতিত মানুষ সবসময় সত্যকে প্রতিপক্ষ হিসাবে দেখেছে এবং ঐশী বাণী ও আল্লাহর মনোনীত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধাচারণে লিপ্ত হয়েছে। কি অদ্ভুত ! যারা মাটি ও কাঠ খড়ির তৈরী মুর্তি এবং অন্যন্য সৃষ্ট জীবের পুজা অর্চনা করতো তারাই নবী-রাসূলদের যৌক্তিক ও বিজ্ঞানসম্মত দাবীর পক্ষে যুক্তি-প্রমাণ দাবী করে বসতো। প্রত্যেক নবী-রাসূল এমনকি যারাই সমাজের কুসংস্কার ও বিভ্রান্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন, তাদেরকেই পচন্ড প্রতিকূল পরিবেশের সম্মুখীন হতে হয়েছে। অপবাদ ও বাধা বিপত্তির দুর্গম প্রাচীর ডিঙিয়ে তারা মানব সভ্যতাকে আলো দান করেছেন। জগতকে সভ্যতার আলোয় উদভাসিত করতে নবী রাসূল এবং অন্যান্য সমাজ সংস্কারককে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়েছে এবং সেই পথ যে কখনো মসৃন ছিল না তা বোধগম্য। এবার এই সূরার ৫৬ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করা যাক। এ আয়াতে বলা হয়েছে, অর্থাৎ "আমি নির্ভর করি আমার ও তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহর উপর। এমন কোন জীব-জন্তু নেই যে তার পূর্ণ আয়ত্ত্বাধীন নয়। আমার প্রতিপালক সরল পথে আছেন। " মুশরেকদের নানা অপবাদ ও ষড়যন্ত্রের পরিপ্রেক্ষিতে হযরত হুদ (আঃ) বললেন, তোমরা সর্বশক্তি দিয়ে যত পার আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র কর। তবে এটা মনে রেখ যে, আমি আমার প্রতিপালক আল্লাহর উপর নির্ভর করি। তিনি শুধু আমার কেন, সকলেরই তিনি শ্রষ্টা ও প্রতিপালক। তোমরা এটা মনে করো না যে, তিনি শুধু আমারই সৃষ্টা এবং তোমাদের উপর তার কোন নিয়ন্ত্রণ নেই! এটা যেনে রাখা উচিত যে, অতি ক্ষুদ্র থেকে সর্ববৃহৎ যা কিছুই বিশ্ব জগতে বিদ্যমান সবই আল্লাহর পূর্ণ আয়ত্বে রয়েছে। তবে তিনি অন্যায্য কোন আচরণ করেন না। তার পথ সরল এবং তিনি ন্যায়বান। # কোরআনের আলো ( সূরা হুদ- পর্ব : ১৪ )
কোরআনের আলোর এ পর্বে আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। এবারে আমরা সূরা হুদের ৫৭ থেকে ৬০ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করব। প্রথমেই ৫৭ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করা যাক। এ আয়াতে বলা হয়েছে, অর্থাৎ " (হুদ বললেন,) তোমরা মুখ ফিরিয়ে নিলেও আমি যা নিয়ে তোমাদের নিকট প্রেরিত হয়েছি আমি তা তোমাদের নিকট পৌছে দিয়েছি। আর আমার পালনকর্তা অন্য কোন সম্প্রদায়কে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন, আর তোমরা তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। নিশ্চয় আমার প্রতিপালক সমস্ত কিছুরই রক্ষণাবেক্ষণ করেন।" হযরত নূহ (আঃ) এর সাথে সম্প্রদায়ের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বাক্য বিনিময়ের বিষয়ে আমরা কথা বলছিলাম। এই সূরার ৫০ নম্বর আয়াত থেকে এ সম্পর্কিত ঘটনার বিবরণ দেয়া হয়েছে। ৫৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, হযরত হুদ (আঃ) তার সম্প্রদায়ের মাতব্বর বা সর্দার গুছের লোকদের উদ্দেশ্যে বললেন, আমি তোমাদের কাছে একত্ববাদের বাণী পৌঁছানোর জন্য সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে আদিষ্ট হয়েছি। ফলে আমি আমার দায়িত্ব সম্পাদন করেছি এবং এ ক্ষেত্রে আমি বিন্দুমাত্র অবহেলা করিনি। এখন তোমরা যদি তা অস্বীকার কর, অমান্য কর তাহলে জেনে রাখ এই জগতেই আল্লাহর পক্ষ থেকে শাস্তি তোমাদেরকে গ্রাস করবে। তোমরা ঐশী শাস্তিতে নিপতিত হয়ে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে এবং সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ অন্য কোন জাতিকে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন। মহান আল্লাহ সর্বশক্তিমান এবং সকল সৃষ্টির উপর তার পূর্ণ আধিপত্য রয়েছে। আল্লাহর বাণী বাহক পয়গম্বরদের দায়িত্ব হচ্ছে, সত্যের ডাক মানুষের কানে পৌঁছে দেয়া। মানুষকে আল্লাহ জ্ঞান ও বুদ্ধিবৃত্তি দিয়েছেন। তাই সত্যকে গ্রহণ করা বা না করার এখতিয়ার মানুষের। এর দায়ভার গয়গম্বরদের উপর বর্তাবে না। ইমান গ্রহণের ক্ষেত্রে মানুষ তার বিবেক ও বিচার-বুদ্ধিকে কাজে লাগাবে, জোর-জবরদস্তি বা প্ররোচনা এ ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য নয়। এবার এই সুরার ৫৮ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করা যাক। এ আয়াতে বলা হয়েছে, অর্থাৎ "এবং যখন আমার নির্দেশ এলো, তখন আমি নিজ অনুগ্রহে হুদ এবং তার সঙ্গী ইমানদারগণকে ক্ষমা করলাম এবং তাদেরকে কঠিন শাস্তি হতে রক্ষা করলাম।" হযরত হুদ (আঃ) এর আহ্বান যখন তার সম্প্রদায় প্রত্যাখ্যান করলো এবং পয়গম্বরের যুক্তি প্রমাণকে উপহাস করে সমাজের অধিকাংশ মানুষ যখন আল্লাহর নবীকে নিয়ে পরিহাস করা শুরু করলো তখন গোটা জাতির উপর ঐশী শাস্তি নেমে এলো। সূরা ফুসসিলাতের ১৫ ও ১৬ নম্বর আয়াতে এ সম্পর্কে বলা হয়েছে, আদ সম্প্রদায়ের ব্যাপার তো এই যে, তারা পৃথিবীতে অযথা দম্ভ করতো এবং বলতো আমাদের চেয়ে শক্তিশালী কে আছে? তারা কি লক্ষ্য করেনি যে, যেই আল্লাহ তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, তিনি তাদের চেয়েও শক্তিশালী? অথচ তারা আমার নিদর্শনাবলীকে অস্বীকার করতো। এরপর আমি তাদেরকে এই পার্থিব জীবনে লাঞ্চনাদায়ক শাস্তি আস্বাদন করাবার জন্য তাদের বিরুদ্ধে ঝঞ্ঝাবায়ু অশুভ দিনে প্রেরণ করে দিলাম। কিন্তু আল্লাহ যেহেতু ন্যায়পরায়ন তাই তিনি হযরত হুদ ও তার ইমানদার সহচরদেরকে ঐ শাস্তি থেকে রক্ষা করেছিলেন। এই আয়াত থেকে এটা উপলদ্ধি করা যায় যে, পাপাচারের কারণে আল্লাহর রোষে যখন প্রাকৃতিক দুর্যোগ নেমে আসে তখন আল্লাহ প্রিয় বান্দাদেরকে রক্ষা করেন। প্রকৃত মোমিন বিশ্বাসীরা সৃষ্টিকর্তার বিশেষ অনুগ্রহে দুর্যোগের হাত থেকে রেহাই পেয়ে যায়। এবার সূরা হুদের ৫৯ ও ৬০ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করা যাক। এই দুটি আয়াতে বলা হয়েছে, অর্থাৎ "এই আদ জাতি তাদের প্রতিপালকের নিদর্শন অস্বীকার করেছিল এবং তাদের জন্য প্রেরিত রাসূলগণকে অমান্য করেছিল এবং তারা প্রত্যেকে ঔদ্ধত্য স্বৈরাচারীর নির্দেশ অনুসরণ করতো। এ পৃথিবীতে তাদেরকে অভিশাপগ্রস্ত করা হয়েছিল এবং তারা শেষ বিচারের দিনেও অভিশপ্ত হবে। জেনে রাখ, আদ জাতি তাদের প্রতিপালককে অস্বীকার করেছিল, ধ্বংসই ছিল হুদের সম্প্রদায় আদের পরিণাম।" সূরা হুদের ৫০ থেকে ৬০ এই দশ আয়াতে হযরত হুদ (আঃ) এর জাতি আদের আচরণ ও কার্যকলাপ বর্ণনা করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে কোরআনের বক্তব্য হচ্ছে, হযরত হুদের শান্তি ও ন্যায়ের বাণী প্রত্যাখ্যান করে তার জাতি কার্যত: সমাজের ঔদ্ধত্য, উগ্র, মুনাফাখোর নেতাদের আনুগত্য করেছিল।ফলে আদ জাতি পৃথিবীতেও ঐশী শাস্তিতে নিস্পেষিত হয়েছে, পরকালেও তাদের জন্য নির্ধারিত হয়েছে চির শাস্তির আবাসন জাহান্নাম। তারা তাদের সীমাহীন পাপ ও আল্লাহকে অস্বীকার করার জন্য আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত হয়েছে চিরকালের জন্য। আদ জাতির বসতি ছিল আরব ভুখন্ডেরই এহকাফ অঞ্চলে। আদরা ছিল আরব এবং তারা খুব লম্বা ও সুঠাম দেহের অধিকারী ছিল। খৃষ্টের জন্মের ৭০০ বছর আগে এই জাতি আরব ভুখন্ডে উন্নত শহর ও জনপদ গড়ে তুলেছিল। পবিত্র কোরআন সর্বশেষ নবী হযরত মোহাম্মদ (সা:) এর সময়কার আরবদেরকে আদ জাতির শক্তিমত্তা এবং তাদের ঔদ্ধত্যের পরিণতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে এ ব্যাপারে তাদেরকে সতর্ক করে দিয়েছ যে, সৃষ্টিকর্তা আø |