![]()
|
|
|
কোরআনের আলো ( সূরা হুদ- পর্ব : ১ ) মুফাসসিরদের অধিকাংশই মনে করেন, এই পবিত্র সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে, মদিনায় হিজরতের আগে ভাগে রাসুলুল্লাহ ( সাঃ) যখন উম্মুল মুমেনিন হযরত খাদিজা ( সাঃ) ও প্রিয় চাচা আবু তালেবের মৃত্যুতে শোকাহত এবং কাফের-মুশরেকদের ক্রমবর্ধমান চাপ ও উৎপীড়নে জর্জরিত তখন এই সূরাটি অবতীর্ণ হয় । এই সূরায় অনেক পয়গম্বরের, বিশেষ করে হযরত নূহ ( আঃ) এর ইতিহাস আলোচিত হয়েছে এবং বিশ্ব নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) ও তার উম্মতকে ঈমানের উপর অবিচল থেকে ইসলাম বিরোধীদের মোকাবেলায় প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানানো হয়েছে । হযরত নূহ ( আঃ) এর পর আদ সম্প্রদায়ের কাছে হযরত হুদ ( আঃ) প্রেরিত হন । তিনি তার সম্প্রদায়কে এক আল্লাহর উপাসনা করার এবং পাপ থেকে দুরে থাকার আহবান জানান । এই সূরার ৫০ থেকে ৬০ নম্বর আয়াতে হযরত হুদ ( আঃ) এর সাথে আদ জাতির আচরণ এবং তাদের পরিণতি সম্পর্কে বলা হয়েছে । এবার আমরা মূল আলোচনায় যাচ্ছি । প্রথমেই এই সূরার ১ ও ২ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করা যাক । আলিফ, লাম, রা, ( কোরআন ) এমন এক গ্রন্থ যার আয়াত সমূহ বা বাক্যগুলোকে সুস্পষ্ট ও সুবিন্যস্ত করা হয়েছে । তারপর যিনি প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞ তার পক্ষ থেকে বিশদ ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে যে, তোমরা আল্লাহ ব্যতীত অন্যের উপাসনা করবে না । আমি তার পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য সতর্ক কারী ও সুসংবাদ বাহক । পবিত্র কোরআনের আরো ২৮টি সূরার মতো এই সূরাটিও হুরুফে মুকাত্তায়া বা আরবী বর্ণমালার ( আলিফ - ১ - ) দ্বারা শুরু হয়েছে । এর মাধ্যমে এটা বুঝানো হয়েছে যে, পবিত্র কোরআন হচ্ছে শাশ্বত মুজেজা বা চিরন্তন অলৌকিক নিদর্শন। যা এই বর্ণমালার দ্বারা সন্নিবেশিত হয়ে মানুষের কাছে উপস্থাপিত হয়েছে । পবিত্র কোরআনের কোন সূরার মত এমনকি এর কোন আয়াত বা বাক্যের অনুরুপ কাব্য তৈরি করার সাধ্য কারো নেই । পবিত্র কোরআনের প্রতিটি বাক্যে তওহীদ বা একত্ববাদের প্রাণ সঞ্চারমান , যা কোন কোন আয়াতে প্রতিভাত হয়েছে এবং তা তত্ত্ব, উপদেশ ও বিধানাবলীরূপে বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে । পবিত্র কোরআনই একমাত্র ঐশীগ্রন্থ যা বিবৃতির হাত থেকে সুরক্ষিত রয়েছে এবং যে গ্রন্থের সত্যতা ও মৌলিকত্বের ব্যাপারে সন্দেহের অবকাশ নেই । পবিত্র কোরআন হচ্ছে ঐশী গ্রন্থ , এতে বিশ্বজগতের নিগুঢ় রহস্য বিধৃত হয়েছে এবং প্রজ্ঞাময় সর্বজ্ঞ সত্তা মহান আল্লাহ মানব জাতির জন্য এই বিধানাবলী সুবিন্যস্ত করেছেন। এবার এই সূরার তিন ও চার নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করা যাক । 'তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর ও তার দিকে প্রত্যাবর্তন কর । তিনি তোমাদেরকে এক নির্দিষ্ট কালের জন্য উত্তম জীবন উপভোগ করতে দেবেন এবং তিনি ধর্মাচরণে অধিক নিষ্ঠাবান প্রত্যেককে অধিক দান করবেন। যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও তবে আমি তোমাদের জন্য মহাদিনের শাস্তির আশঙ্কা করি । আল্লাহরই নিকট তোমাদের প্রত্যাবর্তন এবং তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান । মানুষ যাতে আল্লাহর অনুগ্রহ লাভের সৌভাগ্য অর্জন করতে পারে সেজন্য পয়গম্বরগণ একত্ববাদ প্রচারের পাশাপাশি মানুষকে তার পাপের জন্য অনুশোচনা করতে উদ্বুদ্ধ করতেন। নবী রাসুলগণ সব সময় কামনা করতেন যে, ইমান এবং তওবার সুফল যেন মানুষ এই পার্থিব জগতেই উপভোগ করতে পারে। আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং অতীত পাপের জন্য অনুশোচিত হয়ে মানুষ যাতে এই জগতে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ লাভ করতে পারে পয়গম্বররা সে চেষ্টাই করে গেছেন। তবে এতে কোন সন্দেহ নেই যে, পাপাচারী এবং সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর অবিশ্বাসীদের মধ্যে যাদেরকে এ জগতে বাহ্যত প্রাচুর্যের অধিকারী বলে মনে হয়, তারা পরকালে নিশ্চিতভাবে তাদের কর্মের উপযুক্ত পরিণতি ভোগ করবে। এবার এই সূরার ৫ নম্বর আয়াতের দিকে নজর দিচ্ছি । আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এতে বলেছেন, 'সাবধান ! তারা তার নিকট গোপন রাখার জন্য তাদের অন্তরের বিদ্বেষ গোপন রাখে । সাবধান ! তারা যখন নিজেদের অভিসন্ধি গোপন রাখে তখন তারা যা গোপন রাখে বা প্রকাশ করে তিনি তা জানেন । অন্তুরে যা আছে তা তিনি সর্বশেষ অবহিত । কপটতা ও ভন্ডামী একটি ধর্মপ্রাণ জাতির জন্য বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে । কপটতা এবং কথায় ও কাজে অমিল, এ ধরনের বৈশিষ্টগুলো মানুষকে বিভ্রান্তির গভীরে নিমজ্জিত করে। যারা মুখে যা বলে কিন্তু অন্তরে তার উল্টো চিন্তা পোষন করে, এ আয়াতে এ ধরনের বৈশিষ্ট্যের মানুষকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে। মুনাফিকরা মুসলমানদের ব্যাপারে মনে ভীষণ বিদ্বেষ পোষণ করতো কিন্তু প্রকাশ্যে তারা মুসলমানদের ঘনিষ্ট বন্ধু হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করতো । মুসলমানদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য সুন্দর সুন্দর কথা বলতো । মুনাফিকদের এই হীন আচরণের ব্যাপারে এই আয়াতে বলা হয়েছে, তারা যা বলে এবং যা তাদের অন্তরে আছে আল্লাহ সবই জানেন । কোন কিছুই আল্লাহর জ্ঞানের বাইরে নেই। এই আয়াতে আমাদেরকে এই শিক্ষাই দেয়া হয়েছে যে,যারা ধর্ম ও আদর্শের সাথে বিশ্বসঘাতকতা করে তাদের জেনে রাখা উচিত, সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর কাছে গোপন ও প্রকাশ্য সবই সমান। তিনি সব দেখছেন এবং সবই জানেন। প্রত্যেকের অন্তরে যা আছে তাও আল্লাহর কাছে সুস্পষ্ট । # কোরআনের আলো ( সূরা হুদ- পর্ব : ২ ) আজকের পর্বে আমরা সূরা হুদ এর ৬ থেকে ৮ নম্বর আয়াতের তাফসীর উপস্থাপন করবো । আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সকলকে পবিত্র কোরআন বোঝার এবং সে অনুযায়ী চলার তওফিক দান করুন । প্রথমেই সূরা হুদের ৬ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করা যাক । পৃথিবীর প্রত্যেক জীবের জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহর । তিনি তাদের স্থায়ী ও অস্থায়ী অবস্থিতি সম্বন্ধে অবহিত । সুস্পষ্ট গ্রন্থে সব কিছুই আছে । এই আয়াতে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহতায়ালার অফুরন্ত নেয়ামত এবং তার নিরঙ্কুশ ও সর্বাত্মক জ্ঞানের প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে । আল্লাহ রাব্বুল আলামীনই হচ্ছেন, জীবিকা ও জীবনোপকরণের মালিক । এই আয়াতের মত পবিত্র কোরআনের আরো অনেক আয়াত থেকে এটা বুঝা যায় যে, মহান আল্লাহ শুধুমাত্র জীবের সৃষ্টিকর্তাই নন,তিনি সকল জীবের প্রতিপালক । মানুষসহ ছোট বড় সকল জীবের জীবনোপকরণ তিনিই প্রদান করেন । কোন কিছুই আল্লাহর আয়ত্তের বাইরে নেই। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন একদিকে আলো-বাতাস, তাপ-অক্সিজেনসহ নানা উপকরণের মাধ্যমে এই বিশ্বজগতকে জীবের বসবাস উপযোগী করেছেন অপরদিকে এসব নেয়ামত কিভাবে ব্যবহার করা উচিত সেই শিক্ষাও মানুষকে দান করেছেন। মায়ের বুকে যেমন নবজাতক শিশুর জন্য খাবারের ব্যবস্থা করেছেন তেমনি মায়ের দুধ কিভাবে খেতে হবে নবজাতক শিশুকে সেই শিক্ষাও দিয়ে দিয়েছেন । এই আয়াত থেকে আমরা এটা বুঝে নিতে পারি যে, আল্লাহতায়ালা সকল সৃষ্টজীবের এবং জীবনোপকরণের ব্যবস্থা করেছেন, এটা আল্লাহর প্রতি সকল সৃষ্টজীবের অধিকার । তবে এর অর্থ এই নয় যে, মানুষ তার জীবিকার জন্য আল্লাহর উপর নির্ভর করে বসে থাকবে। জীবিকার জন্য প্রত্যেককে আল্লাহর উপর নির্ভর করে চেষ্টা চালাতে হবে । এবারে এই সূরার ৭ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করবো। 'তিনি সেই সত্ত্বা যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন । আর তার আরশ ছিল পানির উপরে যেন তিনি যাচাই করতে পারেন যে, তোমাদের মধ্যে কে আচরণে শ্রেষ্ঠ । হে পয়গম্বর ! আপনি যদি বলেন যে, মৃত্যুর পর তোমরা পুনরুত্থিত হবে , তাহলে অবিশ্বাসীরা নিশ্চয়ইই বলবে এ তো স্পষ্টত অলীক কল্পনা ।’ পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াত থেকে প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বিশ্বজগত সৃষ্টি করেছেন পানি বা পানির কোন উপাদান থেকে । তিনি এই বিশ্ব জগতকে মূহুর্তেই সৃষ্টি করেন নি বরং ধাপে ধাপে এবং দীর্ঘ মেয়াদে তা সৃষ্টি করেছেন। মানুষ প্রকৃতির নিয়ম এবং নানা পরীক্ষার ভিতর দিয়ে আত্মিক উৎকর্ষতা এবং পূর্ণতা অর্জন করবে এটাই মানব সৃষ্টির উদ্দেশ্য । প্রকৃতিতে আল্লাহর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার মাধ্যম হচ্ছে সৎকর্ম । আর এর প্রেরণা হচ্ছে জ্ঞান ও প্রজ্ঞা । পরীক্ষার নিয়মই হচ্ছে একদল তাতে কৃতকার্য হবে এবং আরেকটি দল হবে ব্যর্থ । নশ্বর জীবনের পরীক্ষার ফল জানা যাবে পরকাল । সেখানে প্রত্যেকেই তাদের কৃতকর্মের উপযুক্ত ফল লাভ করবে । আল্লাহতায়ালা ইচ্ছে করলে যে কোন বস্তু মুহুর্তেই সৃষ্টি করতে পারেন । কারণ তিনি সর্বময় ক্ষমতাবান। কোন নেতিবাচকতা তার সত্ত্বার জন্য অকল্পনীয় । তবে আল্লাহতায়ালা প্রকৃতিতে বা সৃষ্টিজগতে ক্রম পর্যায়ের ধারা প্রবর্তন করেছেন। ফলে প্রকৃতির সবকিছুই সম্পন্ন হয় ধাবে ধাপে। এবার ৮ নম্বর আয়াতের দিকে দৃষ্টি দিচ্ছি । এই আয়াতে আল্লাহতায়ালা বলেছেন- ‘নির্দিষ্ট কিছু দিনের জন্য আমি যদি ওদের শাস্তি স্থগিত রাখি তাহলে ওরা নিশ্চয়ইই বলবে, কিসের ফলে আমাদের শাস্তি বাধা প্রাপ্ত হয়েছে। জেনে রাখ, শাস্তি যেদিন তাদের নিকট আসবে সেদিন তাদের নিকট থেকে তা আর ফিরে যাবে না এবং যা নিয়ে তারা ঠাট্টা বিদ্রুপ করে তা তাদের পরিবেষ্টন করবে । মানুষ যাতে আল্লাহর অবাধ্য না হয় , পাপ এবং মন্দ কাজ না করে সেজন্য নবী রাসুলগণ সব সময়ই সতর্ক করে দিতেন । পৃথিবীতেই যে পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে সে ব্যাপারে পয়গম্বরগণ বারবার সাবধান করে দিতেন । কিন্তু পাপাচারী মানুষ অজ্ঞাত ও দম্ভের বশবর্তী হয়ে নবী-রাসুলদের সতর্ক বাণী নির্দ্বিধায় উপেক্ষা করতো এবং এ নিয়ে তারা নানা রসিকতায় মেতে উঠতো ।' এই আয়াতে আল্লাহতায়ালা এ প্রসঙ্গে বলেছেন, আমি বিশেষ অনুগ্রহের কারণে যদি কোন পাপাচারী সম্প্রদায়কে শাস্তি দিতে বিলম্ব করি তার অর্থ এই নয় যে, তারা শাস্তি বা প্রতিদান থেকে অব্যাহতি পেয়ে গেছে । বরং পাপাচারী সম্প্রদায় এই জগতেই তাদের শাস্তি লাভ করবে। তারা যা নিয়ে রসিকতা করতো তাই তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবে । তবে এতে কোন সন্দেহ নেই যে, শাস্তি বিলম্বিত হলে অনেক বুদ্ধিমান ব্যক্তি অনুশোচনার সুযোগ লাভ করতে পারবে। আল্লাহতায়ালা মানুষকে পাপ এবং অতীত ভুলে সংশোধনের জন্য সময় দিতে থাকেন । ধর্ম নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রুপ করা অবিশ্বাসী কাফেরদের একটি বৈশিষ্ট্য । ইমানদার মুসলমানদের যুক্তি খন্ডন করার মতো তাদের কাছে যখন কোন যুক্তি থাকে না তখনই তারা ঠাট্টা-বিদ্রুপ বা রসিকতায় মেতে উঠে । # ( আপডেট : ২৬ মে-২০০৭)
কোরআনের আলো ( সূরা হুদ- পর্ব : ৩ ) কোরআনের আলোর এ পর্বে আমরা সূরা হুদের ৯ থেকে ১২ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা করব। প্রথমে ৯ ও ১০ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করা যাক। এতে বলা হয়েছে, অর্থাৎ "যদি আমি মানুষকে আমার নিকট হতে অনুগ্রহের আস্বাদ করাই ও পরে তা হতে তাকে বঞ্চিত করি তখন সে হতাশ ও অকৃতজ্ঞ হয়। দুঃখ-দৈন্য স্পর্শ করার পর যদি আমি তাকে অনুগ্রহের আস্বাদ করাই তখন সে বলে থাকে আমার বিপদ কেটে গেছে, আর সে উৎফুল্ল ও অহংকারী হয়ে উঠে।" এই আয়াতে মানুষের মন-মানসিকতার বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে। মানুষ সাধারণত সুখ ও স্বাচ্ছন্দের মধ্যে অনেকটা উদ্ধত ও ও বেপরোয়া হয়ে উঠে। তখন মানুষ ভুলে যায় এই সুখ-শান্তি স্থায়ী নাও তে পারে এবং যে কোন সময়, যে কোন উপায়ে এর উল্টো পরিণতি জীবনকে দুর্বিসহ করে তুলতে পারে। অপর দিকে দুঃখ ও দুর্দশায় নিপতিত হলে মানুষ অধৈর্য্য ও হতাশ হয়ে পড়ে। তবে এ দুটোই আল্লাহর পরীক্ষা। এই দুই পরিস্থিতিতে মহান আল্লাহ মানুষকে পরীক্ষা করে থাকেন। তাই সুখ-শান্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি আর দুঃখ-দুর্দশা আল্লাহর রোষ ও অসন্তুষ্টির ফল সবক্ষেত্রে এমন মনে করা ঠিক নয়। এছাড়া এই আয়াতে পার্থিব জগতের একটি বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে। অর্থাৎ সুখ-শান্তি এবং দুঃখ-দুর্দশা কোনটিই স্থায়ী নয়। আজকের সুখ ক্ষনিকের মধ্যে দুঃখে পরিণত হতে পারে, আবার কোন দুঃখী মানুষের জীবন সুখে ভরপুর হয়ে উঠতে পারে। কাজেই জীবনের চিত্র সব সময় দুই ধরণের। কখনো প্রকৃতির পক্ষে কখনো বিপক্ষে অবতীর্ণ হয়। তাই ইসলামের উপদেশ হচ্ছে সুখ ও সমৃদ্ধি যেন কাউকে উদ্ধত অহংকারী না বানিয়ে ফেলে সে দিকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। আবার বিপদ আপদের সময় ধৈর্য্য ধারন করতে হবে। কারণ মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ দুইভাবেই মানুষকে পরীক্ষা করে থাকেন। এই দুই আয়াত থেকে আমরা আরো উপলদ্ধি করতে পারি যে, মানুষের দূরদর্শীতা ও ধারন ক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত। ফলে সামান্য আঘাতেই মানুষ আল্লাহর অফুরন্ত নেয়ামতের ব্যাপারে নিরাশ হয়ে পড়ে। এটা মনে রাখতে হবে যে, সুখ-সমৃদ্ধি এবং নেয়ামত হচ্ছে আল্লাহর অনুগ্রহ ও কৃপার ফল। এটা মানুষের অধিকার নয়। মহান আল্লাহ বিশেষ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্যের মানুষকে এই অনুগ্রহ দান করে থাকেন। কাজেই আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ লাভ করার পর এ জন্য বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা উচিত। এবার সূরা হুদের ১১ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করা যাক। এ আয়াতে বলা হয়েছে, অর্থাৎ "কিন্তু যারা ধৈর্য্যশীল ও সৎকর্মপরায়ন তাদেরই জন্য আছে ক্ষমা ও মহাপুরস্কার।" প্রকৃতপক্ষে যারা ধৈর্য্যশীল তারাই সৌভাগ্য লাভ করতে সক্ষম হয়, যারা গর্ব-অহংকারে উন্মত্ত কিংবা যারা হতাশায় নিমজ্জিত তাদের অর্জন অত্যন্ত নগণ্য। তবে এই ধৈর্য্য ও সংযম হতে হবে ইমানী শিক্ষার আলোকে। আল্লাহর প্রতি অগাধ ও অকৃত্রিম বিশ্বাসের মাধ্যমে যে ইমান অর্জিত হয় তাই ফল বয়ে আনে। তা না হলে অনর্থক ধৈর্য্য বয়ে আনতে পারে দুর্ভোগ ও দুর্বিসহ এক জীবন। পবিত্র কোরআনের সব জায়গায় ইমান ও সৎকর্ম পাশাপাশি এসেছে। সব জায়গায় দেখা যাবে ইমান গ্রহণের পর আমালে সালিহাত বা সৎকর্মের কথা বলা হয়েছে। শুধু এই একটি স্থানেই সাব্র ও আমালে সালিহাতকে অর্থাৎ ধৈর্য্যের পাশাপাশি সৎকর্মের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বোঝা যায়, ইমানী শক্তি ছাড়া ধৈর্য্যশীলদের স্তরে উপনিত হওয়া যায় না। ইমান নির্ভর ধৈর্য্য অত্যন্ত মনোরম ও আনন্দদায়ক। কারণ এর পেছনে রয়েছে ঐশী পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি। একজন ইমানদার মুসলমানের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, তিনি যে কোন পরিস্থিতিতে ধৈর্য্যশীল হবেন এবং সৎকাজে নিজেকে নিয়োজিত করবেন। এবারে এই সূরার ১২ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করা যাক। এ আয়াতে বলা হয়েছে, অর্থাৎ "(হে পয়গম্বর) তারা যেহেতু বলে যে, তার কাছে কেন ধনভান্ডার পাঠানো হয় না অথবা তার সাথে কেন ফেরেশতা আসে না? সেজন্য কি আপনি যা প্রত্যাদিষ্ট হয়েছে তার কিছু অংশ পরিত্যাগ করবেন ? আর আপনার বক্ষ এর দ্বারা সংঙ্কুচিত করবেন ? নিঃসন্দেহে আপনি তো একজন সতর্ককারী এবং আল্লাহই সর্ববিষয়ের দায়িত্বভার নিয়েছেন।" আগের আয়াতের ব্যাখ্যায় আমরা বলেছি, মানুষের যোগ্যতা, সামর্থ্য ও কোন কিছু ধারণ করবার ক্ষমতা কম এবং সীমিত। এই আয়াতে বলা হচ্ছে, পয়গম্বররা যদি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ এবং ঐশী জ্ঞানের অধিকারী না হতেন তাহলে তারাও সাধারণ মানুষের মত অধৈর্য্য হয়ে পড়তেন, ঐ অবস্থায় তাদের পক্ষে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ এবং বাক্যবান সহ্য করা সম্ভব হয়ে উঠতো না। এমন কি আল্লাহর বিধানের কোন কোন অংশ প্রচারের ব্যাপারেও হয়তো তারা কুণ্ঠাবোধ করতেন। এই আয়াতে আল্লাহ তাঁর রাসূলকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, মানুষের বাক্যবানের কারণে যেন তার অন্তর সংকুচিত হয়ে না পড়ে। কারণ আল্লাহ সবই দেখছেন, তিনিই এসবের উপযুক্ত জবাব দিবেন। এছাড়া রাসূলের দায়িত্ব হচ্ছে আল্লাহর বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া, মানুষ গ্রহণ করলো কি করলো না সে ব্যাপারে রাসূলের কোন দায়িত্ব নেই। এই আয়াতে আল্লাহ তার রসূলকে সরাসরি বলতে চেয়েছেন, আল্লাহর বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্রে বিলম্ব করা যাবে না। গোড়া-বিভ্রান্ত মানুষের কটুক্তি বা বিদ্রুপ মন্তব্যের আশঙ্কায় আল্লাহর বিধানের কোন অংশের প্রচার স্থগিত করা যাবে না। বরং এসব মানুষ গ্রহণ করুক আর নাই করুক যথা সময়েই ঐশী নির্দেশ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। # কোরআনের আলো ( সূরা হুদ- পর্ব : ৪ ) কোরআনের আলোর এবারের পর্বে আমরা সূরা হুদের ১৩ থেকে ১৬ নম্বর আয়াত পর্যন্ত আলোচনা করবো। প্রথমেই ১৩ ও ১৪ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করা যাক। এ আয়াতে বলা হয়েছে, অর্থাৎ " (কাফেররা) বলে হযরত মোহাম্মদ(সাঃ) নিজেই এই কোরআন রচনা করেছেন, বলুন, তোমরা যদি সত্যবাদী হয়ে থাক, তাহলে কোরআনের সূরার অনুরুপ দশটি স্বরচিত সূরা আনয়ন কর এবং আল্লাহ ব্যতীত অপর যাকে পার আহ্বান কর। যদি তারা তোমাদের আহ্বানে সাড়া না দেয় তাহলে জেনে রাখ, (এই কোরআন) আল্লাহর পক্ষ হতেই অবতীর্ণ হয়েছে এবং তিনি ব্যতীত অন্য কোন উপাশ্য নেই। তবে কি তোমরা আত্মসমর্পনকারী হবে না?" গত পর্বের আলোচনায় আমরা বলেছি, অবিশ্বাসী কাফেররা ইসলাম সম্পর্কে বা পবিত্র কোরআন সম্পর্কে এমন সব মন্তব্য করতো যাতে আল্লাহর রাসূল অনেক সময় মর্মাহত হতেন। এ প্রসঙ্গে এই আয়াতে বলা হয়েছে, কাফেরদের অনেকেই প্রচার করতো কোরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ কোন কিতাব নয় বরং পয়গম্বর (দ:) নিজেই তা রচনা করেছেন। অবিশ্বাসী কাফেরদের এই প্রচারণার জবাবে এই আয়াতে বলা হয়েছে, কোরআন যদি মানব রচিত গ্রন্থই হয়ে থাকে তাহলে তোমরা কোরআনের কোন সূরার মত সূরা রচনা করে দেখাও, এ ক্ষেত্রে এককভাবে নয় বুদ্ধিজীবী, কবি, সাহিত্যিক সকলে সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করে দেখ কোরআনের মত কোন সূরা রচনা করা যায় কিনা। কোরআনে ১১৪টি সূরা রয়েছে। অবিশ্বাসীদের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে আল্লাহ এখানে বলেছেন, ১১৪টি সূরার দরকার নেই গোটা দশেক সূরা রচনা করে দেখালেই হবে। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী হয়ে রয়েছে যে, কোরআন অবতীর্ণ হওয়ার পর ১৪০০ বছর অতিক্রান্ত হলেও আজ পর্যন্ত কেউ এই চ্যালেঞ্জের মোকাবেলায় দাঁড়াতে পারে নি। কোরআনের সূরার মত কোন সূরা আজ পর্যন্ত রচনা করতে সক্ষম হয়নি। এটাই পবিত্র কোরআনের সত্যতার প্রমাণ। হ্যাঁ, পবিত্র কোরআন যে শাশ্বত মোজেজা তা মুসলিম তো বটেই অনেক অমুসলিম পন্ডিতও এখন তা স্বীকার করেন। কোরআন হচ্ছে মানব জাতির জন্য খোদা প্রদত্ত জীবন বিধান, যা অবতীর্ণ হয়েছে সীমাহীন জ্ঞানের আধার মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর পক্ষ থেকে। তাই এই বিধান কোন কাল বা স্থানের গন্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়। সর্বকালে এবং সর্বত্র এই বিধান প্রযোজ্য। জ্ঞানপাপী কাফেরদের কিংবা কিংবা তথাকথিত বুদ্ধিজীবীদের বিভ্রান্তিকর মন্তব্যে প্রভাবিত না হওয়ার ব্যাপারে মোমিন মুসলমানদেরকে সচেতন থাকতে হবে। এবার এই সূরার ১৫ ও ১৬ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করা যাক। এই আয়াতে বলা হয়েছে, অর্থাৎ "যদি কেউ পার্থিব জীবন ও তার শোভা কামনা করে তবে পৃথিবীতেই আমি তাদের কর্মের পরিমিত ফল দান করি এবং পৃথিবীতে তারা কম পাবে না। তাদের জন্য পরলোকে নরকের আগুন ছাড়া অন্য কিছু নেই। পার্থিব জীবনে তারা যা করে পরলোকে তা নিষ্ফল হবে এবং তারা যা করে তা নিরর্থক।" এই আয়াতে আল্লাহর রাসূল এবং পবিত্র কোরআনের বিরুদ্ধবাদীদের সম্পর্কে বলা হয়েছে, যারা পার্থিব জগতের সুখ-শান্তি এবং মোহের বশবর্তী হয়ে আল্লাহর বিধানকে উপেক্ষা করবে এবং নিজ অন্তরকে প্রবৃত্তির দাসে পরিণত করবে, এটাই স্বাভাবিক যে পরলোকে তাদের ঠিকানা হবে নরক। তবে এই জগতে যারা আল্লাহর উপর বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকাজ করে, বিভিন্নভাবে মানুষের মঙ্গলের জন্য কাজ করে তারা তাদের ভালো কাজের প্রতিদান এই পার্থিব জগতেই লাভ করবে। এই পার্থিব জগতে তাদের প্রতিদানের ব্যাপারে কোন কমতি রাখা হবে না। তবে একমাত্র ইমানদার বিশ্বাসীরাই পরকালীন পুরষ্কারের আশা করতে পারে। তবে মহান আল্লাহ হচ্ছেন পরম করুণাময়, তিনি পরকালে হয়ত অনেককে তাদের সৎকর্মের জন্য বেহেশতে প্রবেশ করাবেন, তাদের শাস্তি কিছুটা হ্রাস করে দিবেন। মানুষের সকল কর্মেরই মূল্যায়ন হবে, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে। মানুষ যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির বিষয়টি বিবেচনায় না রেখে পার্থিব উদ্দেশ্যে সৎকর্ম করে তাহলে পরকালে তাতে কোন ফল হবে না। তবে সৃষ্টিকর্তা যেহেতু ন্যায়পরায়ন তাই বস্তুবাদী মানুষের ভালো কাজের পুরষ্কারের ব্যবস্থা রেখেছেন। এ ধরনের সৎকর্মশীল মানুষ এই পার্থিব জগতেই তাদের প্রতিদান লাভ করে থাকে। #
কোরআনের আলো ( সূরা হুদ- পর্ব : ৫ ) পবিত্র কোরআন হচ্ছে মানবজাতির জন্য প্রেরিত সর্বশেষ ঐশী গ্রন্থ । কোরআনের পর মানুষের জন্য নতুন কোরে আর কোন বিধানাবলী আল্লাহ্তায়ালার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হবে না । বিশ্ব নবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর পর কোন নবী বা রাসুলেরও আগমন ঘটবে না । তাই কোরআনের বিধান চিরন্তন এবং সর্বযুগের জন্য উপযুক্ত । আর তাই ইসলাম হচ্ছে শাশ্বত ধর্ম । তাই আমাদের সকলকে কোরআন বুঝার জন্য চেষ্টা করতে হবে । আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সকলকে সেই যোগ্যতা ও সামর্থ দান করুক। গত আসরে আমরা সূরা হুদের ১৩ থেকে ১৬ সংখ্যক আয়াতের তাফসীর উপস্থাপন করেছি। আজকের আসরে ১৭ থেকে ১৯ আয়াতের তরজমা ও ব্যাখ্যা তুলে ধরব । ১৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন '' যিনি (অর্থাৎ পয়গম্বর (সা:) প্রভূর পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট নিদর্শন প্রাপ্ত হয়েছেন, এর সাথে রয়েছে প্রভূর পক্ষ থেকে একজন সাক্ষী ,এবং তার পূর্ববর্তী মুসা (আ:) এর গ্রন্থও এর সাক্ষী, যা ছিল পথ নির্দেশক ও রহমত স্বরূপ । তিনি কি এমন কারো সমতুল্য হতে পারেন যিনি এসব বৈশিষ্ট্যের অধিকারী নন ? (যারা সত্য সন্ধানী ) তারাই (এই কোরআনে) বিশ্বাস স্থাপন করেন । যারা ( কোরআনকে ) অস্বীকার করে নরকই হচ্ছে তাদের স্থান । সুতরাং আপনি এতে সন্দিগ্ধ হবেন না, নি:সন্দেহে এটি আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে ধ্রুব সত্য । যদিও অনেকেই তা বিশ্বাস করে না ।'' ইসলামের প্রথম যুগে যারা পবিত্র কোরআনকে ঐশী গ্রন্থ হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকার করেছিল তাদের মধ্যে মদিনার ইহুদীরা ছিল অন্যতম । ইসলামের সূচনালগ্ন থেকেই ইহুদীরা কোরআনের সত্যতার ব্যাপারে বিভ্রান্তিকর নানা প্রশ্নের উদ্রক করতো এবং বলে বেড়াত হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর নব্যুয়তের দাবী সত্য নয় । এই আয়াতে এসব বিদ্বেষ পরায়ণ ইহুদী পন্ডিতদেরকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে, তাহলে কি তোমরা হযরত মুসার রেসালাত এবং তৌরাতের সত্যতা ও দাবীকে অস্বীকার করবে ? হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর নব্যুয়তের দাবীকে কেন্দ্র করে এত বিষ্ময়ের ভাব কেন দেখাচ্ছো , তৌরাতে কি শেষ নবীর আগমন বার্তা সুষ্পষ্টভাবে বলে দেয়া হয় নি ? তাওরাতের ভাষ্য অনুযায়ী তোমরা ইহুদীরা কি শেষ নবীর আগমনের জন্য অপেক্ষা করছো না ? সত্যিই যদি তোমরা তাওরাতে বিশ্বাসী হয়ে থাকো তাহলে তোমাদের উচিত হযরত মুহাম্মদ (সা:) কে সর্বশেষ পয়গম্বর এবং কোরআনকে সর্বশেষ ঐশীগ্রন্থ হিসেবে বিশ্বাস করা তা না হলে অন্যান্য অবিশ্বাসীদের মত তোমাদেরও স্থান হবে নরকে । এই আয়াতে কোরআন ও শেষ নবীর সত্যতার সাক্ষী হিসেবে তাওরাতের কথা বলার পাশাপাশি নবী বংশের একজনকে এর সাক্ষী হিসেবে ইঙ্গিত করা হয়েছে। বিভিন্ন বর্ণনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, হযরত আলীর প্রতিই এই ইঙ্গিত করা হয়েছে। কারণ তিনিই শিশু বয়সে আল্লাহর রাসুলের সান্নিধ্য লাভ করার সৌভাগ্য অর্জন করেছিলেন এবং তাঁরই সরাসরি তত্ত্বাবধানে বেড়ে ওঠেন । ফলে আল্লাহর রাসুলের সহচরদের মধ্যে একমাত্র হযরত আলীই হচ্ছেন একমাত্র ব্যক্তি যাকে ইসলাম পূর্ব যুগের কোন কদর্যতা স্পর্শ করতে পারেনি । সততা, ন্যায়পরায়নতা অবিচল বিশ্বাস এবং ইসলামের জন্য নিবেদিত প্রাণ ব্যক্তি হিসেবে যিনি ইতিহাসের পাতায় অম্লান হয়ে রয়েছেন । হযরত আলীর মর্যাদা রাসুল্লাহর সাথে পারিবারিক বন্ধনের কারণে এ ধরনের দাবী যথার্থ নয় । আল্লাহ ও তার রাসুলের নির্ভেজাল আনুগত্য এবং জ্ঞানদীপ্ত অন্তরের কারণেই খোদা প্রদত্ত মর্যাদার উচ্চাসনে তিনি অধিষ্ঠিত হয়েছেন । শুধুমাত্র আত্মীয়তা বা পারিবারিক বন্ধন এক্ষেত্রে বিবেচিত হয়নি । আত্মীয়তার গুরুত্বকে যদি বেশি দেয়া হতো তাহলে রাসুলের চাচা আবু লাহাবও ইসলামে একজন গণ্যমান্য ব্যক্তি হিসেবে স্থান করে নিতে সক্ষম হতেন । কিন্তু দেখা যাচ্ছে ঈমান না থাকার জন্য এবং ইসলামের বিরুদ্ধে শক্রর ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার কারণে আবু লাহাবের ধ্বংস কামনা ক'রে পবিত্র কোরআনে একটি স্বতন্ত্র সূরাই অবতীর্ণ হয়েছে। আয়াতটির শেষ ভাগে গুরুত্ব আরোপ করে বলা হয়েছে, অধিকাংশ মানুষের বিরোধিতা বা সত্য প্রত্যাখ্যানের কারণে মুসলমানদের উচিত হবে না নিজেদের বিশ্বাস ও দৃষ্টিভঙ্গীর ব্যাপারে সন্ধিগ্ধ হয়ে পড়া , কোরআন আল্লাহ প্রদত্ত জীবন বিধান ,এবং এই কিতাব সব ধরনের প্রক্ষেপ মুক্ত, এতে কোন সন্দেহ নেই । অধিকাংশ মানুষের ø |