কোরআনের আলো

( সূরা ইউসুফ- পর্ব : )

সূরা ইউসুফে মোট ১১১ টি আয়াত রয়েছে। ইবনে আব্বাস ব্যতীত সকল মুফাস্বেরে কোরআন মনে করেন পুরো এই সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে । তবে হয়রত ইবনে আব্বাসের মতে  এই সূরার চারটি আয়াত অর্থ্যাৎ ১ ম, ২ য়, ৩য়, ও ৭ম আয়াত মদীনায় অবতীর্ণ হয়। সে যাই হোক এই সূরায় হযরত ইউসুফ (আ:) এর ঘটনা ধারাবাহিকভাবে বর্ণিত হয়েছে যা চিন্তাকর্ষক ও শিক্ষাপ্রদ ।

এই সূরার ১ম ও ২য় আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন, ‌‌‍‍ " অনন্ত করুণাময় পরম দয়ালু আল্লাহর নামে , আলীফ , লাম ,রা , এগুলি সুস্পষ্ট গ্রন্থেরে আয়াত । নিশ্চয়ই আমরা কোরআনকে আরবী ভাষায় অবতীর্ণ করেছি যাতে তোমরা বুঝতে পার। "

সূরা ইউসুফ ও কোরআনের আরো ২৯ টি সূরার মত হুরুফে মুকাত্তায়া দিয়ে শুরু হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে এই অক্ষর গুলো আল্লাহ ও তার রাসুলের মধ্যকার কোন গোপন রহস্য যা অন্য কারো জানা নেই । এই অক্ষরগুলোর মাধ্যমে কোরআনের মহত্ত্ব ও শ্রেষ্ঠত্বও ফুটে  ওঠে , অর্থাৎ  আল্লাহতা'লা যেন কোরআনের অলৌকিতা এসব অক্ষরের মাধ্যমে মানুষের কাছে উপস্থাপন করেছেন।

এই আয়াতদ্বয়ে দুটো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। প্রথমে  বলা হয়েছে কোরআন হচ্ছে সুস্পষ্ট গ্রন্থ, যা আলোকবর্তিকার মতো মানুষের সামনে চীর সত্যকে উদ্ভাসিত করে। দ্বিতীয়ত  বলা হয়েছে, কোরআনের আয়াত বা বাণী  নিয়ে চিন্তা ও গবেষণা মানুষের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পরকালীন মুক্তি ও পুষ্কারের আশায় শুধু  আবৃত্তি করার জন্য কোরআন অবতীর্ণ হয়নি। বরং আল্লাহর বিধান অনুযায়ী মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবন গড়ে তোলার জন্য কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে, কাজেই কোরআনকেই জীবনের একমাত্র পাথেয় হিসেবে গ্রহণ করতে হবে ।

কোরআন তেলাওয়াতের অনেক ফজিলত বা তাৎপর্য রয়েছে, তাই শুধু তেলাওয়াতের জন্য কোরআন নাযিল হয়নি। কোরআন বোঝার চেষ্টা করতে হবে। কোরআনের বিষয়বস্তু নিয়ে চিন্তা ও গবেষণা করতে হবে। কারণ সৃষ্টির নানা রহস্যের সমাধান রয়েছে খোদা প্রদত্ত এই ঐশী মহাগ্রন্থে, তাই জ্ঞানী ব্যক্তিরা তা উদঘাটন করে মানবজাতির কল্যাণের পথ সুগম করতে পারে । এই সূরার ৩য় আয়াতে বলা হয়েছে ,'' হে পয়গম্বর ! ওহীর মাধ্যমে তোমার নিকট যে কোরআন প্রেরণ করেছি তাতে উত্তম কাহিনী বর্ণনা করছি। এর পূর্বে অবশ্য তুমি সে সম্পর্কে অনবহিত ছিলে। ''

এই আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার রাসুলকে বলেছেন, আমি ওহী বা প্রত্যাদেশ বাণীর মাধ্যমে আপনাকে এই কোরআন দিয়েছি এবং এতে যে সকল কাহিনী বর্ণিত হয়েছে তা এই ঐশি মহাগ্রন্থেরই অংশ । মানুষ যদি কোন ঐতিহাসিক ঘটনাকে শুধু কাহিনী বা গল্প শোনার মানসিকতা নিয়ে মূল্যায়ন না করে তাহলে অতীত ইতিহাস মানুষের জন্য শিক্ষা নেয়ার মূল্যবান উপাদান হয়ে উঠতে পারে।

কোরআনে বর্ণিত ঘটনাবলী সন্দেহাতীত সত্য যা বিজ্ঞানের এই যুগে প্রমাণিত হয়েছে। হযরত আলী ( আ: ) ইমাম হাসান ও হোসাইনকে লেখা এক চিঠিতে বলেছেন, আমি অতীত নিয়ে এত পড়াশোনা করেছি যে মনে হয়েছে যে আমি যেন ঐ যুগে বসবাস করেছি। সে যাই হোক কোরআন অতীত ইতিহাস সম্পর্কে অনেক অস্পষ্টতা দূর করেছে। অনেক ক্ষেত্রে মিথ্যা অতিরঞ্জন এবং কল্পকাহিনী থেকে মুক্ত করে সঠিক ঘটনা মানবজাতির সামনে উপস্থাপন করেছে। এসব কারণে কোরআনকে উত্তম কাহিনী সম্ভার বলেও আখ্যায়িত করা হয়েছে। এসব কাহিনীর মধ্যে হযরত ইউসুফ ( আ: ) এর কাহিনী অন্যতম । যার বর্ণনা চিত্তাকর্ষক তবে সবর্কালের মানুষের জন্যে শিক্ষণীয় । একজন পরিণত যুবক কিভাবে কু প্রবৃত্তি এবং শয়তানের কু মন্ত্রণা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারে  তারই জীবন্ত আদর্শ এই ঘটনায় ফুটে ওঠেছে। # ( আপডেট : ১৫ জানুয়ারি-২০০৮)

  

কোরআনের আলো

(সুরা ইউসুফ - পর্ব :২)

 

কোরআনের আলোর এ পর্বে আমরা সূরা ইউসুফের ৪ থেকে ৬ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা করব। প্রথমে ৪ নম্বর আয়াতের আলোচনা করা যাক । এ আয়াতে বলা হয়েছে, ইউসুফ তার পিতাকে বলেছিল ,‌‌‌‌‌‍'' হে আমার পিতা! আমি একাদশ নক্ষত্র , সূর্য্য ও চন্দ্রকে দেখেছি- দেখেছি ওরা আমার প্রতি সিজদাবনত অবস্থায় রয়েছে''। পবিত্র কোরআনে হযরত  ইউসুফ (আ:) এর ঘটনা শুরু হয়েছে একটি স্বপ্নের ঘটনা বর্ণনার মধ্য দিয়ে । প্রকৃতপক্ষে স্বপ্ন ছিল হযরত ইউসুফের  প্রতি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত । নবী করিম (সা:) বলেছেন, স্বপ্ন তিন ধরনের । কোন  কোন‌ স্বপ্নে আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষকে সুসংবাদ দেয়া হয়। অনেক সময় মানুষ শয়তানের পক্ষ থেকে স্বপ্ন দেখে যা হতাশা এবং দু:খ দুর্দশার পরিপূর্ণ থাকে । তৃতীয় ধরনের স্বপ্ন হচ্ছে যা মানুষের দৈনিন্দিন আচার -আচরণ , সমস্যা ইত্যাদি তার স্বপ্নে প্রতিফলিত হয়। তবে অলি -আওলিয়া এবং পবিত্র ব্যক্তিরা যে স্বপ্ন দেখেন তা সত্য। যেটা আল্লাহর পক্ষ থেক অহী বা এলহামের মত । যেমন হযরত ইব্রাহিম (আ:) স্বপ্নে দেখেছিলেন যে তিনি নিজ পুত্র ইসমাঈলকে কোরবানী করছেন। এসব স্বপ্নের মাধ্যমে ভবিষ্যতে ঘটবে এমন কিছুর পূর্বাভাস দেয়া হয়। হযরত ইউসুফ (আ:) এর স্বপ্নও ছিল অনুরুপ তাৎপর্য মন্ডিত যা আমরা আরো পরে আলোচনা করব। এই আয়াত থেকে বোঝা যায় অনেক সময় স্বপ্নের মাধ্যমেও সঠিক দিক নির্দেশনা  লাভ করা যায়। পবিত্র মনের অধিকারী পরহেজগার ব্যক্তিরা এ ধরণের দিক নির্দেশনা লাভ করে থাকেন।এবারে ৫ নম্বর আয়াতের আলোচনা করব । এ আয়াতে বলা হয়েছে,'' তিনি (অর্থ্যাৎ হযরত ইয়াকুব আ: ) বললেন, হে আমার পুত্র, তোমার  স্বপ্ন বৃত্তান্ত তোমার ভাইদের সামনে বর্ণনা করো না, করলে (তারা) তোমার  বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করবে।নিশ্চয়ই শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু ।'' হযরত ইউসুফ (আ: ) এর পিতা হযরত ইয়াকুব (আ:) ও আল্লাহর নবি ছিলেন, তাই তিনি স্বপ্নের বর্ণনা শুনে বুঝতে পারলেন যে এটা সাধারণ কোন স্বপ্ন নয় বরং ভবিষ্যতে  হযরত ইউসুফ (আ:) একজন আদর্শ ব্যক্তিত্বে পরিণত হবেন। কাজেই তিনি ভাইদের কাছে এই স্বপ্ন বৃত্তান্ত না বলার জন্য ইউসুফকে সাবধান করে দিলেন। কারণ স্বপ্নের তাৎপর্য অনুধাবন করে ভাইরা হযরত ইউসুফের প্রতি ইর্ষান্বিত হয়ে তার ক্ষতি করতে পারে। পরিবারে একাধিক সন্তান থাকলে বিভিন্ন কারণে নিজেদের মধ্যে জেদ বা বিদ্বেষের জন্ম হতে পারে। কাজেই পিতা মাতা এবং সন্তানদের সকলেরই দায়িত্ব হচ্ছে, একজনের প্রশংসা অন্যদের সামনে বর্ণনা না করা। এ জন্যই হযরত ইউসুফ( আ: ) অন্য ভাইদের আড়ালে পিতা ইয়াকুব (আ: )  কে তার স্বপ্নের কথা জানান এবং হযরত ইয়াকুব (আ:) ও স্বপ্ন বৃত্তান্ত অন্যদেরকে বলতে নিষেধ করেন।এবার ৬ নম্বর আয়াতের আলোচনায় যাওয়া যাক । এ আয়াতে বলা হয়েছে, ''এভাবে তোমার প্রতিপালক তোমাকে মনোনীত করবেন, এবং তোমাকে স্বপ্নের ব্যাখ্যা শিক্ষা দিবেন, এবং তোমার প্রতি ও ইয়াকুবের পরিবার পরিজনের প্রতি তার অনুগ্রহ পূর্ণ করবেন যেভাবে তিনি তোমার পিতৃপুরুষ ইব্রাহিম ইসহাকের প্রতি তা পূর্ণ করেছিলেন। নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়। এই আয়াতে বলা হচ্ছে, হযরত ইয়াকুব (আ:) তার পুত্র ইউসুফকে বললেন, হে পুত্র,  মহাআল্লাহ ভবিষ্যতে তোমাকে পয়গম্বর হিসেবে মনোনীত করবেন ,এবং আমাদের বংশের প্রতি তার বিশেষ অনুগ্রহ পূর্ণ করবেন। তিনি তোমাকে স্বপ্নের তাৎপর্য  ব্যাখ্যা শিক্ষা দিবেন। হযরত ইয়াকুব (আ:) নবী হিসেবে আল্লাহর পক্ষ থেকে যে ঐশী জ্ঞান বা '' এলমে গাইব '' লাভ করেছিলেন তারই ভিত্তিতে তিনি হযরত ইউসুফকে তার ভবিষ্যত সম্পর্কে অবহিত করেন। এছাড়া হযরত ইউসুফের স্বপ্নেও এ সম্পর্কে ইঙ্গিত ছিল। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যাদেরকে নবী হিসেবে মনোনীত করেন তাদেরকে তিনি পর্যাপ্ত জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দান করেন, যাতে তারা মানব জাতিকে সঠিক দিক নির্দেশনা দিতে পারেন। #(আপডেট ৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৮)

                     

কোরআনের আলো

   (সুরা ইউসুফ - পর্ব: ৩)

 

কোরআনের আলোর এ পর্বে আমরা ৭ থেকে ১০ নং আয়াতের অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা উপস্থাপন করছি। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সূরা ইউসুফের ৭ ও ৮ নং আয়াতে বলেছেন,'' অবশ্যই ইউসুফ ও তাঁর ভাইদের কাহিনীতে (সত্য) অনুসন্ধিৎসুদের জন্যে নির্দেশনাবলী রয়েছে। যখন তারা বললো , অবশ্যই ইউসুফ ও তার ভাই (বেনইয়ামিন) আমাদের পিতার কাছে আমাদের চেয়ে অধিক প্রিয় , যদিও আমরা তাদের চেয়ে অধিক শক্তিশালী । নিশ্চয়ই আমাদের পিতা  স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছেন।

গত আসরেই আমরা বলেছি হযরত ইউসুফ (আ:) এর কাহিনী শুরু হয়েছে একটি স্বপ্নের ঘটনা বর্ণনার মধ্য দিয়ে । হযরত ইউসুফ (আ: ) যে ভবিষ্যতে একজন মহান ব্যক্তিত্বে পরিণত হবেন ঐ স্বপ্নে তারই ইঙ্গিত দেয়া হয়েছিল। কিন্তু ঐ অবস্থানে পৌঁছা হযরত ইউসুফ (আ:) এর জন্য খুব সহজ ব্যাপার ছিল না । অনেক প্রতিবন্ধকতা ও বিপত্তির মধ্য দিয়ে হযরত ইউসুফকে অগ্রসর হতে হয়েছিল ; এটাই লক্ষ্য করার বিষয় । সত্য অনুসন্ধানীদের জন্য এখানেই অনেক শিখবার বিষয় রয়েছে।

এর আগের আয়াতে  হযরত ইউসুফ (আ:) এর স্বপ্নের বর্ণনা দেয়া হয়েছে। তবে বাস্তব ঘটনা যা এই আয়াতে বলা হয়েছে, তাহলো বেনইয়ামিন ছাড়া বাকীরা ছিল হযরত ইউসুফ (আ:) এর বৈমাত্রেয় ভাই। হযরত ইয়াকুব (আ:) ছোট হিসেবে হযরত ইউসুফ ও বেনইয়ামিনকে খুব স্নেহ করতেন, এটা বেমাত্রেয় ভাইদের ভালো লাগতো না।তারা ত্রুমেই হযরত ইউসুফ (আ:) এর প্রতি ইর্ষাপরায়ণ হয়ে ওঠে। তারা নিজেদের মধ্যে বলাবলী করতে লাগলো , আমরা সামর্থবান যুবক হওয়া সত্ত্বেও আমাদের বাবা শুধু ওদের দুইজনকেই বেশি স্নেহ করে। নিশ্চয়ই আমাদের বাবা বড় ভুল করছেন। এই আয়াতের শিক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, পিতা মাতার কোন আচরণের কারণে সন্তানদের মধ্যে যাতে হিংসা বিদ্বেষের সৃষ্টি না হয় সে দিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে।

এবার ৯ নং আয়াতের দিকে দৃষ্টি দেয়া যাক । ''( বৈমাত্রেয় ভাইরা একে অপরকে বললো)  ইউসুফকে হত্যা কর অথবা তাকে কোন স্থানে নির্বাসন দাও, তাহলেই পিতার দৃষ্টি কেবল তোমাদের প্রতিই নিবিষ্ট হবে , তারপর তোমরা ( তওবা ) করে ভালো লোক হয়ে যাবে। ''

ইউসুফের প্রতি পিতার বাৎসল্যতা বৈমাত্রেয় ভাইদের মনে এমন ভুল ধারনার জন্ম দিল যে , তারা পিতার অধিক আনুকূল্য লাভের বাসনায় ইউসুফকে প্রয়োজনে হত্যা করার কথাও ভাবতে লাগল । তারা শলা পরামর্শ করলো, ইউসুফ হচ্ছে পথের কাঁটা তাকে অপসারণের  পর আমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবো। পাপের জন্য তাওবা করবে, আল্লাহও আমাদেরকে ক্ষমা করে দিবেন, এর পর আমরা ভালো মানুষ বনে যাব। তারা আসলে তাওবার মর্মার্থ অনুধাবনে ব্যর্থ হয়েছিল। যদি কেউ মনে করে যে , এখন না হয় পাপ কাজ করলাম , পরে তাওবা করে  ক্ষমা চেয়ে নিব , আল্লাহ নিশ্চয়ই মাফ করে দিবেন। এ ধরনের মানসিকতা আত্ম প্রবঞ্চনার শামিল। কারণ তাওবা হচ্ছে পাপ করে ফেলার পর অনুতাপ ও অনুশোচনার একটি পর্যায় , তাওবা পাপে লিপ্ত হওয়ার অজুহাত হতে পারে না।যাই হোক , হযরত ইউসুফ (আ; ) কে হত্যা করা বা কোন প্রান্তরে ফেলে আসার চিন্তা তৈরী হয়েছিল শয়তানের প্ররোচনার ফলেই , এর মাধ্যমে হযরত ইউসুফের প্রতি তার ভাইদের প্রচন্ড হিংসা  বিদ্বেষেরই বহিংপ্রকাশ ঘটেছে।

হিংসা বিদ্বেষ এবং পরশ্রীকাতরতা অনেক সময় অত্যন্ত ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে । হিংসার বশবর্তী হয়ে অনেক সময় মানুষ নিজ সহোদরকেও হত্যা করতে দ্বিধা করে না। হযরত ইউসুফ ( আ:) ও তার ভাইদের ঘটনা ছাড়াও হযরত আদম ( আ:) এর সন্তান হাবিল ও কাবিলের ঘটনা এর সাক্ষী হয়ে আছে। হিংসায় উন্মত্ত হয়ে কাবিলের হাত তার ভাইয়ের রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল।

এবার ১০ নং আয়াতের দিকে যাচ্ছি। '' তাদের মধ্যে একজন বল্লো, ইউসুফকে হত্যা করো না , এবং তোমরা যদি কিছু করতেই চাও তাহলে কোন গভীর কূপে ফেলে দাও , যাতে কোন পথিক তাকে উঠিয়ে নিয়ে যায়।

হযরত ইউসুফকে হত্যার পরিকল্পনা নিয়ে তার বৈমাত্রেয় ভাইদের মধ্যে মতপাথ্যক্য দেখা দেয় । কারণ সবার মনে  বিদ্বেষের মাত্রা এক রকম ছিল না । একজন বললো , ইউসুফতো আমাদের ভাই , কাজেই তার রক্তে নিজেদেরকে কলূষিত না করে  বরং তাকে কোন গভীর কূপে ফেলে দেয়া হোক , কোন পথিক কূপ অতিত্রুম করার সময় নিশ্চয়ই তার সন্ধান পাবে এবং তাকে তারা সঙ্গে করে দূর কোন দেশে নিয়ে যাবে।

এই প্রস্তাব অন্যদের মনপুত হলো ফলে হযরত ইউসুফ (আ:) মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেলেন। অনেক সময় একটি ছোট্ট ঘটনাই ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ঘটবার প্রেক্ষাপট তৈরী করে । ইউসুফ (আ: ) কে হত্যার ব্যাপারে তার কোন এক ভাইয়ের বিরোধীতার কারণে তিনি প্রাণে রক্ষা পেয়েছিলেন  এর পর এক সময় হযরত ইউসুফ  (আ:) মিশরের রাষ্ট্রক্ষমতা লাভ করেন এবং নিজের আধ্যাতিক জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে দেশের মানুষকে প্রচন্ড দুর্ভিক্ষ্যের হাত থেকে রক্ষা করতে সক্ষম হন । একই রকম আরেকটি দৃষ্টান্ত হচ্ছে ফেরাউনের স্ত্রী আসিয়া , তিনি হযরত মুসা (আ:) কে হত্যার ব্যাপারে বাধা দেন ,পরবর্তীতে হযরত মুসা (আ:) তার সম্প্রদায় বনি ইসরাইলকে ফেরাউনের হাত থেকে উদ্ধার করেন।#(আপডেট ৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৮)