![]()
|
|
|
পাকিস্তানের লাহোরে ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণঃ নিহত ২২ জন ১১ মার্চঃ পাকিস্তানের লাহোরে আজ দুটি শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণ ঘটেছে। বিভিন্ন সংবাদ সূত্রে জানা গেছে, এ বিস্ফোরণে ২২ জনেরও বেশী নিহত এবং শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে। সম্প্রতি পাকিস্তানে পার্লামেন্ট ও জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের পর সেদেশে বিস্ফোরণের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো এ ধরণের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তাদের অস্তিত্বের প্রমাণ দেয়ার চেষ্টা করছে। নির্বাচনের পর পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে বলে ব্যাপকভাবে আশা করা হচ্ছিল। এখন পর্যন্ত কোন গোষ্ঠী লাহোরে বিস্ফোরণের দায়িত্ব স্বীকার না করলেও, আদালত পাকিস্তানে তালেবান নেতা বাইতুল্লাহ মাহ্সুদকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালানোর যে নির্দেশ দিয়েছে যে তার সাথে এসব বিস্ফোরণের সম্পর্ক রয়েছে বলে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন। আদালত বলেছে, মাহ্সুদসহ আরো চার জনের বিরুদ্ধে পিপলস পার্টির নেত্রী বেনজির ভুট্টোর হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে এবং এদের গ্রেফতার ও বিচার করা হবে। মাহ্সুদ পাকিস্তানের দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে অন্তত ৫০০ জন তালেবান সমর্থকের নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং বলা হচ্ছে তার সাথে আল কায়দার যোগসাজস রয়েছে। মাহ্সুদকে গ্রেফতার ও বিচার করার জন্য সন্ত্রাস বিরোধী আদালতের রায়ের বিরোধীতাকারীরা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে বলে যে সন্দেহ করা হচ্ছে পাকিস্তানের হাইকোর্ট ও ফেডারেল তদন্ত সংস্থার ভবনের কাছে এ বিস্ফোরণ ঘটায় ঐ সন্দেহ আরো জোরদার হচ্ছে। তবে পাকিস্তানে চলমান রাজনৈতিক ঘটনাবলী ও জোট সরকার গঠনের যে প্রক্রিয়া চলছে তার সাথে লাহোর বিস্ফোরণের যোগসূত্র থাকতে পারে বলে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন। তাই তাদের মতে পাকিস্তানে সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিজয়ী দলের উচিত হবে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে মোকাবেলার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেয়া। কারণ এরা পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তাকে হুমকীর মুখে ঠেলে দিয়েছে। এতে কোন সন্দেহ নেই যে, পাকিস্তানে ধারাবাহিক বোমা বিস্ফোরণ সেদেশকে ক্রমেই নিরাপত্তাহীনতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে এবং এ থেকে কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী ফায়দা হাসিল করছে। কিন্তু এ মুহূর্তে যেটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা হচ্ছে, পাকিস্তানের জনগণ চায় সেদেশের নিরাপত্তা বিভাগ অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর মোকাবেলা করুক। গত প্রায় এক মাসে পাকিস্তানে একাধিক বোমা বিস্ফোরণে শত শত মানুষ হতাহত হয়েছে এবং নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় সেদেশের নিরাপত্তা বিভাগের সক্ষমতার ব্যাপারে সন্দেহ ক্রমেই ঘনিভূত হচ্ছে। #
মার্কিন রাজনীতিবিদরা ক্রমেই বিভিন্ন কেলেঙ্কারীতে জড়িয়ে পড়ছেন
যুক্তরাষ্ট্রের আরেক জন রাজনীতিবিদের কেলেঙ্কারীর ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর তিনি শেষ পর্যন্ত ক্ষমা চাইতে বাধ্য হয়েছেন। নিউইয়র্কের গভর্ণর ইলিওট স্পীটজর যৌন ব্যবসায়ী চক্রের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এজন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। কিন্তু বিষ্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে তিনি ২০০৬ সালে যৌন ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিউইর্কের গভর্ণর নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছিলেন। এখন এটা পরিস্কার হয়ে গেল যে, তিনি অনৈতিক ঐ ব্যবসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বললেও ঐ ব্যবসায়ী চক্রের সাথেই তার সম্পর্ক ছিল। নিউইর্কের এই গভর্ণরের কেলেঙ্কারীর ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর এ নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনা নিউইর্কের সিনেটর ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের অন্যতম প্রার্থী হিলারী ক্লিন্টনের নির্বাচনী প্রচারাভিযানের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ হিলারী ক্লিন্টন ও ইলিওট স্পীটজর উভয়েই ২০০০ সালের নির্বাচনে একে অপরকে সহযোগিতা করেছিলেন এবং ঐ নির্বাচনে হিলারী নিউইর্কের সিনেটর হতে পেরেছিলেন। এই দুই ব্যক্তির সম্পর্ক তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিদের বিশেষ করে ইলিওট স্পীটজরের কেলেঙ্কারীর ঘটনা বারাক ওবামার জন্য বড় সুযোগ এনে দিতে পারে। এদিকে আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের অপর প্রার্থী জন ম্যাক কিনের অবৈধ সম্পর্কের কথা ফাঁস হয়ে যাওয়ায় এই দলও একই ধরণের বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে। ফলে এসব ঘটনা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উভয় দলের রাজনীতিবিদরা যে কি পরিমান আর্থিক কেলেঙ্কারী ও নৈতিক পদস্খলনের মধ্যে ডুবে আছে তা সহজেই বোঝা যায়। সাম্প্রতিক দশকগুলোতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টনের যৌন কেলেঙ্কারীর ঘটনা থেকে শুরু এ পর্যন্ত খ্যাতনামা বহু মার্কিন রাজনীতিবিদের ব্যাপারে এ ধরণের অভিযোগ শোনা গেছে। পারিবারিক নীতিমালা ভঙ্গের কারণে অধিকাংশ রাজনীতিবিদকে বদনামের ভাগী হতে হয়েছে। এ বিষয়গুলো মার্কিন রাজনীতিবিদদের ব্যাপারে সেদেশের জনগণের মাঝে এক ধরণের হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন নির্বাচনে জনগণের অংশ গ্রহণের মাত্রা দিন দিন কমে যাওয়া থেকে জনগণের হতাশারই প্রমাণ পাওয়া যায়। #
ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের ভিত্তিহীন অভিযোগ ১০ মার্চ : ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা উচ্চ পরিষদের সচিব সাঈদ জালিলি বলেছেন, মার্কিন সরকার শুধুমাত্র অজুহাত সৃষ্টির জন্য ইরানের পরমাণু কর্মসূচীর ব্যাপারে ভিত্তিহীন অভিযোগ করছে। জনাব জালিলি রোববার তেহরানে ইরানের পরমাণু কর্মসূচীর ব্যাপারে আয়োজিত একদিনের এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এ কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচী বিশ্বের দেশগুলোর জন্য একটি উত্তর নজীর স্থাপন করেছে। কারণ, ইরান একদিকে এনপিটি চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে সকল দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছে এবং অন্যদিকে নিজের অধিকার আদায় করে নেয়ার ব্যাপারেও বদ্ধ পরিকর। জনাব জালিলি ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচীকে অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত, এই তিন ভাগে বিভক্ত করে বলেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচীর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কারো কোন অভিযোগ নেই। কারণ, আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আই.এ.ই.এ'র মহা পরিচালকের একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচী স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ এবং এতে কোন অসঙ্গতি খুঁজে পাওযা যায় নি। ইরান একটি পরিকল্পনার মাধ্যমে আই.এ.ই.এ'র সকল প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে এবং সকল অস্পষ্টতা দূর করেছে। জনাব আলবারাদি'র প্রতিবেদনেও উল্লেখ করা হয়েছে, এনপিটি চুক্তির সব আইন ইরান মেনে চলেছে। অতীতে ইরানের পরমাণু কর্মসূচী সম্পর্কে কিছু পশ্চিমা দেশ কিছু ভিত্তিহীন অভিযোগ উত্থাপন করেছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা তাদের ঐ অভিযোগের স্বপক্ষে কোন দলিল উস্থাপন করতে পারে নি। অতীতে যেসব দেশ ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করার দায়ে অভিযুক্ত করেছিল, তারাই এখন দাবি করছে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচীতে অস্পষ্টতা রয়েছে। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন ও ফ্রান্সের এই দাবিরও কোন গ্রহনযোগ্যতা আই.এ.ই.এ'র কাছে নেই, কারণ, এবারের দাবির স্বপক্ষেও তারা কোন প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারে নি। কাজেই কোন প্রমাণ বিহীন দাবি'র ওপর ভিত্তি করে একটি দেশকে তার ন্যায়সঙ্গত অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যায় না। এদিকে ভিত্তিহীন দাবি ও অনর্থক সন্দেহের ওপর ভিত্তি করে একটি দেশের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে কোন প্রস্তাব পাশ করা যায় না। মজার ব্যাপার হলো, যেসব পশ্চিমা দেশ সন্দেহের বশবর্তী হয়ে ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টার জন্য অভিযুক্ত করছে, যখন এসব দেশের অস্ত্র ভান্ডারে রয়েছে হাজার হাজার পারমাণবিক অস্ত্র। এছাড়া এনপিটি চুক্তির ছয় নম্বর ধারায় স্পষ্টভাবে বলা আছে, পারমাণবিক অস্ত্রধর দেশগুলোকে এ অস্ত্রসহ সব ধরনের গণ বিধ্বংসী অস্ত্র ধ্বংস করে ফেলতে হবে। কিন্তু এনপিটি লংঘন করে মার্কিন সরকার, বৃটেন ও ফ্রান্স পরমাণু অস্ত্র তৈরি করে যাচ্ছে। এছাড়া ঐ তিনটি পশ্চিমা দেশ ইহুদীবাদী ইসরাইলকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপাদান দিয়ে সহযোগিতা করছে। এ ব্যাপারে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা উচ্চ পরিষদের সচিব একটি গুরুত্বপূণ প্রশ্ন তুলে ধরেছেন। আর তা হলো, একটি দেশের বিরুদ্ধে আনীত মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে নিরাপত্তা পরিষদ যদি কোন ব্যবস্থা নেয় এবং পরে প্রমাণিত হয়, যে দেশটি ঐ দোষে দোষী নয়, তাহলে এরই মধ্যে দেশটির যে ক্ষতি হয়ে গেছে তা কিভাবে পুষিয়ে দেয়া যাবে, বা আদৌ সে ক্ষতিপূরণ দেয়া সম্ভব কি না। ইরানের বিরুদ্ধে এতদিন ভিত্তিহীন অভিযোগ করে পশ্চিমা সরকার ও গণমাধ্যমগুলো তেহরানের যে ক্ষতি করেছে, তার ক্ষতিপূরণ চাওয়ার অধিকার ইরানের রয়েছে।# পাকিস্তানে জোট সরকার গঠনের ব্যাপারে ঐক্যমত্য ১০ মার্চ : পাকিস্তানের প্রধান দুই বিরোধী দল পিপলস পার্টি ও মুসলিম লীগ নাওয়াজ শরীফ শাখা দেশটিতে একটি জোট সরকার গঠনের ব্যাপারে চুড়ান্ত ঐক্যমত্যে পৌঁছেছে। রোববার পিপলস পার্টির উপপ্রধান আসিফ আলী যারদারি ও মুসলিম লীগ সভাপতি নাওয়াজ শরীফ জোট সরকার গঠনের ব্যাপারে তাদের ঐক্যমত্য অবস্থানের ঘোষণার দেয়ার ফলে বোঝা গেছে, পদচ্যূত বিচারপতিদের স্ব স্ব পদে বহাল করার ব্যাপারে নাওয়াজ শরীফ যে শর্ত দিয়েছিলেন, আসিফ যারদারি তা মেনে নিয়েছেন। গতমাসে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে সম্প্রতি নিহত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজীর ভুট্টোর দল পাকিস্তান পিপলস পার্টি বা পিপিপি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়লাভ করে। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক আসন না থাকায় দলটিকে জোট সরকার গঠনের জন্য অন্য কোন দল বা জোটের স্মরণাপন্ন হতে হয়। দলের উপপ্রধান আসিফ আলী যারদারি ঘোষণা করেন, তিনি দেশে একটি জাতীয় ঐক্যমত্যের সরকার গঠন করতে চান, এমনকি প্রয়োজন প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ সমর্থিত দলকে তার জোট সরকারে নিতে চান। তার ঐ ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে ভাষ্যকাররা মনে করছেন, মুসলিম লীগ ও পিপিপি'র মধ্যে জোট সরকার গঠনের ব্যাপারে যে মতৈক্য হয়েছে, তা কেবল এই দুটি দলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রেসিডেন্ট মোশাররফের বিরোধিতার ক্ষেত্রে মুসলিম লীগ ও পিপিপি'র অবস্থান এক হলেও পররাষ্ট্রনীতি, সেনাবাহিনী ও সন্ত্রাসবাদ বিরোধী যুদ্ধের ব্যাপারে দুই দলের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। এ কারণে জনাব শরীফ ও যারদারি আগামী ৫ বছর জোট ধরে রাখার প্রতিশ্রুতি দিলেও দুই দলের মধ্যে অদূর ভবিষ্যতে মতপার্থক্য তীব্র হওয়া কিংবা জোট ভেঙ্গে যাওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। পিপিপি ক্ষমতায় গেলে প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফের সাথে ব্যাপক সংঘর্ষে যেতে চায় না, কারণ, দলটি জানে সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের হাতে ব্যাপক ক্ষমতা রয়েছে, এমনকি যে কোন সময় জনাব মোশাররফ সরকারও ভেঙ্গে দিতে পারেন। কিন্তু জোটের অপর শরীক নাওয়াজ শরীফের অবস্থান এক্ষেত্রে অনেক কড়া। ১৯৯৯ সালে জেনারেল মোশাররফের হাতে রক্তপাতহীন অভ্যূত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা হারানো এই সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়ার প্রকাশ্য হুমকি দিয়েছেন। তিনি পদচ্যূত প্রধান বিচারপতি ইফতেখার মোহাম্মাদ চৌধুরিকে তার পদে পুনর্বহাল করে প্রেসিডেন্ট মোশাররফের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে চান। এ কারণে, মুসলিম লীগ ও পিপিপি তাদের মধ্যকার জোট কতদিন ধরে রাখতে পারবে, সে বিষয়ে বিশ্লেষকরা সংশয় প্রকাশ করেছেন। এছাড়া পিপলস পার্টি মার্কিন সরকারের সাথে সহযোগিতা করতে আগ্রহী হলেও মুসলিম লীগ ওয়াশিংটনের সাথে অতিরিক্ত মাখামাখি পছন্দ করে না। ওয়াশিংটন এরই মধ্যে পাকিস্তান সরকারের কাছে ১১ দফা বিশিষ্ট একটি দাবি উত্থাপন করেছে। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে, মার্কিন নাগরিকদের বিনা ভিসায় পাকিস্তান সফরের অনুমতি, কোন মার্কিন নাগরিক কোন অপরাধ করলেও তার বিচার না করা ইত্যাদি। পাকিস্তান সরকার এরই মধ্যে এ দাবি প্রত্যাখ্যান করলেও ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ঐসব দাবি মেনে নেয়ার জন্য ইসলামাবাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। পাকিস্তান সরকার মার্কিন ঐ প্রস্তাবকে সেদেশের অভ্যন্তরীন বিষয়ে পশ্চিমাদের অচাযিত হস্তক্ষেপ বলে অভিহিত করেছে। মার্কিন প্রস্তাবের ব্যাপারে পাকিস্তানের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলিও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে।# ডেনমার্কের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করুন : আরব পার্লামেন্ট ৯ মার্চঃ আরব পার্লামেন্ট এক বিবৃতিতে ডেনমার্কের দৈনিকগুলোতে বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ(সাঃ)এর অবমাননাকর কার্টুন প্রকাশের প্রতিবাদে ঐ দেশটির সাথে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য আরব ও অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। বিবৃতিতে ডেনমার্কের সাথে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য সুদানের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়। সম্প্রতি ড্যানিস পত্রপত্রিকায় আবারও মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এ অবমাননাকর কার্টুন প্রকাশ এবং এ ব্যাপারে দেশটির সরকারের নির্লিপ্ততার কারণে বিশ্বের মুসলমানরা তীব্র প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ প্রকাশ করেছে। ডেনমার্কে রসূলের অবমাননা করে কার্টুন প্রকাশ কিংবা হল্যান্ডের টেলিভিশনে ইসলাম বিরোধী ফিল্ম প্রচার ও এ ব্যাপারে সেদেশের সরকারের সমর্থন থেকে বোঝা যায়, ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিত ও সমন্বিত ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবেই এ ধরণের পদপে নেয়া হয়েছে। পবিত্র ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে খারাপ ধারণা সৃষ্টি করার জন্যই পশ্চিমা দেশগুলোতে ইসলাম বিরোধী প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এ অবস্থায় ডেনমার্ক কিংবা হল্যান্ডের মত দেশগুলোর বিরুদ্ধে শক্ত ও কার্যকরী পদপে নেয়া মুসলিম দেশগুলোর জন্য অত্যন্ত জরুরী হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে কয়েকটি পশ্চিমা দেশের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ থেকে বোঝা যায়, মুসলিম দেশগুলোর পক্ষ থেকে কেবল মৌখিক নিন্দা জানানোই যথেষ্ট নয়। মুসলিম দেশগুলো যদি এ ধরণের হীন কাজের সাথে জড়িত দেশগুলোর বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার মত পদক্ষেপে গ্রহণ করে তাহলে শত্রুদের ইসলাম অবমাননার তৎপরতা রুখে দেয়া সম্ভব হবে। পাশ্চাত্যে বাক স্বাধীনতার নামে আল্লাহর নবীদেরকে যেভাবে অবমাননা করা হচ্ছে তাতে জাতিসঙ্ঘের মত আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে এর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেয়া জরুরী। এ কারণে আরব পার্লামেন্ট আরব ও অন্যান্য মুসলিম দেশে এমন একটি আইন প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে যাতে যে কেউ নবী রাসূলদের অবমাননা করলে তাকে বিচারের সম্মুখীন করা যায়। # ইসরাইলী অপরাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিবাদ অব্যাহত ৯ মার্চঃ ফিলিস্তিনে ইহুদীবাদী ইসরাইলের অপরাধযজ্ঞের বিরুদ্ধে বিশ্বের অধিকাংশ স্থানের জনগণের প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন সংবাদ সূত্রে জানা গেছে, ফিলিস্তিনীদের সমর্থনে এবং ইসরাইলী অপরাধের নিন্দা জানিয়ে প্যারিস, বার্লিন, ইস্তাম্বুল, আঙ্কারাসহ বিশ্বের বিভিন্ন শহরের জনগণ বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। বিক্ষোভকারীরা ইসরাইলের এ নৃশংসতার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সমাজের নিরবতারও সমালোচনা করেছে। ইহুদীবাদী ইসরাইল এখন আন্তর্জাতিক সমাজের প্রচন্ড ঘৃণার সম্মুখীন এবং বিশ্ব জনমতের চপের মুখে এমন কি কোন কোন ইউরোপীয় সরকারও বাহ্যিকভাবে হলেও ইসরাইলের সাথে তাদের সম্পর্কের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে বলে ঘোষণা দিতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ পশ্চিমা সরকার বিশ্ব জনমতের প্রতিবাদ উপেক্ষা করে ইসরাইলের প্রতি সর্বাত্মক সমর্থন দিয়ে তাদের সাথে কুটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। এই দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম ফ্রান্সের কর্মকর্তারা আগামীকাল ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট শিমোন প্যারেজের সাথে আলোচনায় বসবেন। তাছাড়া ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাযিপি লিউনিও মার্কিন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনার জন্য আজ ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন বলে কথা রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, পশ্চিমা দেশগুলোর সর্বাত্মক সমর্থনের কারণে ইসরাইল আন্তর্জাতিক সকল রীতি নীতি উপো করে মানবতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তারপরও ইসরাইলী অন্যায়ের বিরুদ্ধে গত কয়েক দিনে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের রাজধানীতে জনগণের বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে ইসরাইলের প্রতি তাদের দেশের সরকারের সমর্থনের ব্যাপারে তাদের অসন্তোষের বিষয়টিই ফুটে উঠেছে। তাছাড়া জণগণের অব্যাহত প্রতিবাদ থেকে ইসরাইলের বিরুদ্ধে বিশ্ব জাগরণ এবং ইসরাইলের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত গ্রহণে আন্তর্জাতিক সমাজকে বাধ্য করতে তাদের দৃঢ় ইচ্ছার বিষয়টিও ফুটে উঠেছে। ইসরাইলের বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিবাদ বিক্ষোভের মাধ্যমে ইসরাইল ও তার দোষরদের জন্য আরেকটি যে বার্তা পৌঁছে দেয়া হয়েছে তা হচ্ছে পশ্চিমাসহ সারা বিশ্বের জনগণ পশ্চিমাদের নিয়ন্ত্রিত আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মত কেবল নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করতে রাজি নয়। # ইরাকে মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকবেঃ মার্কিন সেনা প্রধান ৮ মার্চঃ মার্কিন সেনা বাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল মাইকেল মুলান আবারও ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহারের সময়সীমা নির্ধারণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটসের সাথে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, আমরা ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সময় সীমা নির্ধারণের বিরোধী। মুলান আরো বলেছেন,ইরাক থেকে দ্রুত সেনা প্রত্যাহার করা হলে সেখানে অর্জিত লক্ষ্যসমূহ ভেস্তে যাবে এবং ইরাক বিভক্ত হয়ে পড়বে। এই প্রথম কোন মার্কিন কর্মকর্তা ইরাক বিভক্তির বিপদ বা নেতিবাচক পরিণতির বিষয়ে বক্তব্য দিলেন। গত বছর মার্কিন সিনেটে ইরাককে বিভক্ত করার ব্যাপারে একটি প্রস্তাব পাশ হয়েছিল। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বি কোন কোন প্রার্থী প্রেসিডেন্ট বুশের ইরাক নীতির তীব্র সমালোচনা করার পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি সেনা বাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তারা ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহারের সময়সীমা নির্ধারনের বিরোধীতা করছেন। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরাকে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নবায়ন করার জন্য কংগ্রেস কিংবা অন্যকোন সংস্থার পক্ষ থেকে নতুন করে অনুমতি নেয়ার কোন প্রয়োজন সেনা বাহিনীর নেই। এই বিবৃতিতে ইরাকে সেনা উপস্থিতি বজায় রাখার ব্যাপারে মার্কিন সেনা কর্মকর্তাদের ইচ্ছারই প্রতিফলন ঘটেছে এবং এর কয়েকটি উদ্দেশ্য রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিবৃতির মাধ্যমে একদিকে ইরাক যুদ্ধকে জাতীয় স্বার্থের সাথে সম্পর্কিত দেখিয়ে সমালোচকদের দাবীকে গুরুত্বহীন বা খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করেছে। অন্যদিকে এ বিবৃতির মাধ্যমে ইরাকে মার্কিন সেনা উপস্থিতির সময়সীমা নির্ধারণের ব্যাপারে নিরাপত্তা পরিষদের ইশতেহারকেও পাশ কাটিয়ে গেল। ইরাকের অনুরোধ এবং জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৭৯০ নম্বর ইশতেহার অনুযায়ী ইরাকে বিদেশী সেনা উপস্থিতির মেয়াদ চলতি বছরের শেষ নাগাদ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী নূরী আল মালেকি নিরাপত্তা পরিষদের কাছে ইরাকে বিদেশী সেনা উপস্থিতির মেয়াদ শেষবারের মত আরো এক বছরের জন্য বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। এদিকে ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহারের জন্য সময়সীমা নির্ধারণের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বিতর্ক আরো জোরদার হয়েছে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট বুশ ও তার সমর্থকরা কখনই চায় না ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে কোন আইন পাশ হোক। কারণ ঐ আইন আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হতে পারে বলে তারা শঙ্কিত। এ কারণে তারা ইরাকে সেনা উপস্থিতি বজায় রাখার উপর জোর দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।#
গাজায় ইসরাইলী গণহত্যার জবাবে বাইতুল মোকাদ্দাসে শাহাদাতপিয়াসী হামলা ৭ মার্চ : বাইতুল মোকাদ্দাসে ফিলিস্তিনী সংগ্রামীদের শাহাদাতপিয়াসী হামলায় বহু ইহুদীবাদী হতাহত হওয়ার পর গোটা ইসরাইল জুড়ে নিরাপত্তা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। ইহুদীবাদী জনগণের জীবনের নিরাপত্তা রক্ষা করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে ইসরাইলের একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে বাইতুল মোকাদ্দাসের একটি ইহুদী ধর্মীয় স্কুলে চালানো ঐ শাহাদাতপিয়াসী হামলা ছিল গত দুই বছরের মধ্যে ইসরাইলে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী হামলা। সম্প্রতি ইসরাইলী গুপ্তচর বাহিনী মোসাদের হামলায় শহীদ লেবাননের হিযবুল্লাহ সেনা কমান্ডার ইমাদ মুগনিয়া'র নামে গঠিত একটি ফিলিস্তিনী সংগ্রামী সংগঠন বাইতুল মোকাদ্দাসের ঐ হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে। গাজা উপত্যকায় ইহুদীবাদীদের বিরুদ্ধে শাহাদাতপিয়াসী হামলার খবর পৌঁছার পর সেখানকার ফিলিস্তিনীরা রাস্তায় নেমে উল্লাস প্রকাশ করেছে। ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনী শাবাক বলেছে, তারা এ ধরনের হামলায় হতবিহবল হয়ে পড়েছে, কারণ, তাদের গোয়েন্দা সূত্র এ ধরনের হামলার কোন ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারে নি। ইসরাইলী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাইতুল মোকাদ্দাসের শাহাদাতপিয়াসী হামলার পর দাবি করেছে, ঐ হামলা ফিলিস্তিনী স্বশাসন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সাথে তাদের কথিত শান্তি আলোচনা বাধাগ্রস্ত করবে না। গত এক সপ্তায় অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার নিরস্ত্র ফিলিস্তিনী জনগণের উপর ইসরাইলের ভয়াবহ হামলায় প্রায় ২০০ মানুষ নিহত হওয়ার পর বাইতুল মোকাদ্দাসে এ প্রতিশোধমূলক হামলা চালানো হয়েছে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কারসাজির কারণে গাজায় ইসরাইলী আগ্রাসনের ব্যাপারে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কোন বৈঠক হতে না পারলেও বাইতুল মোকাদ্দাসের ইহুদী ধর্মীয় স্কুলে হামলা হওয়ার সাথে সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আহবানেই নিরাপত্তা পরিষদের জরুরী বৈঠক বসে। কিন্তু নিরাপত্তা পরিষদের কিছু অস্থায়ী সদস্য দেশের বিরোধিতার কারণে ঐ বৈঠক থেকে কোন নিন্দা প্রস্তাব পাশ করা যায় নি। জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত যালমাই খালিলযাদ এ ক্ষেত্রে লিবিয়ার নাম উল্লেখ করে বলেছেন, লিবিয়াসহ কয়েকটি দেশের বিরোধিতার কারণে ইসরাইলের বিরুদ্ধে চালানো হামলার নিন্দা প্রস্তাব পাশ করা যায় নি। নিউইয়র্ক থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, লিবিয়া ইসরাইলে হামলার নিন্দা জানানোর বিরোধিতা করার পাশাপাশি উল্টো গাজা উপত্যকায় বর্বর ইসরাইলী সেনাদের সাম্প্রতিক গণহত্যার নিন্দা জানানোর আহবান জানিয়েছে। এদিকে ফিলিস্তিনের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন বা হামাস বলেছে, অধিকৃত কুদস শহরে ফিলিস্তিনীদের শাহাদাত পিয়াসী হামলা প্রমাণ করেছে, দখলদার ইহুদীবাদীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সংগ্রাম চলবে। ফিলিস্তিনের অপর স্বাধীনতাকামী সংগঠন গণ মুক্তি ফ্রন্ট বাইতুল মোকাদ্দাসের হামলাকে অকুতোভয় ও অভূতপূর্ব হামলা বলে উল্লেখ করেছে। গণমুক্তি ফ্রন্টের রাজনৈতিক শাখার সদস্য আবু আহমাদ ফুয়াদ ইরানের স্যাটেলাইট নিউজ চ্যানেল আলআলমকে দেয়া সাক্ষাতকারে বলেছেন, ইহুদীবাদীদের উপর শাহাদাতপিয়াসী হামলার মাধ্যমে ফিলিস্তিনী জনগণের উপর দখলদার ইসরাইলের একের পর এক পাশাবিক হামলার পাল্টা জবাব শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনী সংগ্রামীরা প্রমাণ করেছেন, তারা কুদস দখলদার ইসরাইলী সেনাদের প্রতিটি হামলারই দাঁতভাঙ্গা জবাব দেবে। জনাব আবু আহমাদ ফুয়াদ বলেন, ইসরাইলের বিরুদ্ধে সংগ্রামের ক্ষেত্রে বৃহস্পতিবার রাতে ইহুদীবাদ বিরোধী হামলা একটি অভূতপূর্ব নজীর স্থাপন করেছে এবং ইহুদীবাদীদের মনে রাখতে হবে, তাদের কোন হামলাকেই বিনা জবাবে ছেড়ে দেয়া হবে না। # আরব দেশগুলোর এন.পি.টি থেকে বেরিয়ে আসার হুমকী ৬ মার্চঃ আরব দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা গতকাল বৈঠক শেষে এক বিবৃতিতে বলেছেন, ইহুদীবাদী ইসরাইল যদি আনুষ্ঠানিকভাবে পরমাণু অস্ত্র থাকার কথা স্বীকার করে তাহলে তারা পরমাণু অস্ত্র উৎপাদন ও বিস্তাররোধ সংক্রান্ত চুক্তি এন.পি.টি. থেকে বেরিয়ে আসবে। ইসরাইল আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আই.এ.ই.এর নজরদারী ছাড়া দীর্ঘ দিন ধরে সামরিক পরমাণু তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে এবং এ ব্যাপারে সরকারীভাবে এখন পর্যন্ত কোন মুখ খোলেনি। তবে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী ইহুদ ওলমার্ট প্রায় দুই বছর আগে জার্মানীর বার্লিন সফরকালে প্রথমবারের মত তাদের হাতে পরমাণু অস্ত্র থাকার কথা সরাসরি স্বীকার করেছিলেন। এ অবস্থায় ইসরাইল আনুষ্ঠানিকভাবে পরমাণু অস্ত্র থাকার কথা স্বীকার করলে আরব দেশগুলো এন.পি.টি. থেকে বেরিয়ে যাবে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যে বিবৃতি দিয়েছেন এ অঞ্চলের রাজনৈতিক মহল তাকে কেবল প্রচারণা মহড়া বলে অভিহিত করেছে। তা |